SIR বিতর্কে নয়া মোড়! আবাস যোজনার শংসাপত্র না-মঞ্জুর কমিশনের, ‘সুপ্রিম কোর্ট অবমাননা’ বলে তোপ জোড়াফুলের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘আবাস যোজনা’ এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নথি। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই দুই সরকারি প্রকল্পের নথিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য প্রমাণপত্র হিসেবে বাতিল ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে কমিশনের বিরুদ্ধে ‘সুপ্রিম কোর্ট অবমাননা’-র গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিচয় বা বাসস্থানের প্রমাণপত্র হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ (PMAY) বা রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এসআইআর-এর একটি নোটিসে কমিশন জানিয়েছিল, প্রামাণ্য নথি হিসেবে সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র গ্রহণ করা যেতে পারে। সেই নির্দেশিকার ভিত্তিতে অনেকেই মনে করেছিলেন যে কেন্দ্র বা রাজ্যের আবাস যোজনার নথি দেখালেই এসআইআর-এর কাজ মিটে যাবে। কিন্তু কমিশনের এই সাম্প্রতিক নির্দেশে সেই আশায় জল ঢালা হয়েছে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। দলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই আকস্মিক পদক্ষেপ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী এবং এটি সুস্পষ্টভাবে ‘আদালত অবমাননা’ (Contempt of Court)।
সম্প্রতি এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় অযথা বাধা বা হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূলের মতে, এই নথি বাতিল করে কমিশন শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকেই অমান্য করছে। আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের শংসাপত্রগুলি খোদ সরকার দ্বারা যাচাইকৃত এবং অনুমোদিত। সেই বৈধ সরকারি নথিকে নির্বাচন কমিশন কীভাবে বাতিল করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল।
তৃণমূলের দাবি, গরিব ও প্রান্তিক মানুষের কাছে অনেক সময় পাসপোর্ট বা অন্যান্য ভারী নথির অভাব থাকে, কিন্তু সরকারি প্রকল্পের ঘরের শংসাপত্র থাকে। এই নথি বাতিল করার অর্থ হলো সুপরিকল্পিতভাবে গরিব মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার এই সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শাসক দলের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাংলার একজন ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ দিতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, আবাস যোজনার নথি বাতিলের এই নতুন নির্দেশ এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊