দুই দশকের অবসান! বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন এবং প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালের সফল সমাপ্তি ঘটল। প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক উন্মুক্ত ও রাজকীয় অনুষ্ঠানে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। পুরো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন এই মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পালাবদল, কারণ গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদটি মূলত নারী নেতৃত্বের (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) অধীনে ছিল। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়লাভ করে বিএনপি জোট। ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি। আজ সকালেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর সংসদীয় দলের এক বিশেষ সভায় তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন, যা অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রা প্রদান করে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে ঢাকায় আসেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এছাড়া চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এই বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি এবং সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে, এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊