রাজ্য বাজেটের আগেই সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার রায়, কী আছে সরকারি কর্মীদের ভাগ্যে?
নয়াদিল্লি/কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে আগামীকাল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে বহুচর্চিত ডিএ (Supreme Court DA Case Verdict) মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুপুর নাগাদ রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার আগেই শীর্ষ আদালত এই রায় জানিয়ে দেবে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে আগামীকাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন বা ‘মেগা বৃহস্পতিবার’ হতে চলেছে।
আদালত সূত্রে খবর, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চ এই রায় (Supreme Court DA Case Verdict) ঘোষণা করবে। ইতিপূর্বে প্রকাশিত আদালতের কার্যতালিকা বা ‘কজ লিস্ট’ অনুযায়ী, কোর্ট নম্বর ১১-তে এই রায়দান পর্ব সম্পন্ন হবে।
আগামীকাল রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার কথা। ঠিক তার আগেই সকাল ১০:৩০ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়দান রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে বাড়তি তাৎপর্য তৈরি করেছে। রায় (Supreme Court DA Case Verdict) যদি কর্মীদের পক্ষে যায় এবং বকেয়া মেটানোর নির্দেশ আসে, তবে তা রাজ্য বাজেটের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Supreme Court DA Case Verdict) নিয়ে আইনি লড়াই দীর্ঘদিনের। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার শেষ শুনানি হয়েছিল। সওয়াল-জবাব শেষে দুই বিচারপতি রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন।
- আদালত সেই সময় রাজ্য সরকারকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য দুই সপ্তাহ এবং কর্মী সংগঠনগুলোকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল।
- তার আগে গত ১৬ মে, বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে ৪ সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে।
রাজ্য সরকারের হয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বারবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ডিএ বা মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকারের মধ্যে পড়ে না। পাল্টা পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা জানিয়েছিলেন, অধিকার না হলেও দিনের পর দিন কর্মীদের প্রাপ্য টাকা এভাবে আটকে রাখা যায় না। ন্যূনতম প্রাপ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানো প্রয়োজন।
রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেছিল, বকেয়া মেটাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে বরাদ্দ নেই। এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে আরও ছয় মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ আইনি জট পেরিয়ে আগামীকাল সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিন।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊