শিলিগুড়িতে রাতের নিরাপত্তা শূন্য! সেবক রোডে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল হিন্দু মহামঞ্চ
অমিত বনিক, সংবাদ একলব্য: শিলিগুড়ি শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিশেষত রাতের নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার শিলিগুড়ি থানার সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হল বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চের উত্তরবঙ্গ শাখা। সম্প্রতি সেবক রোডে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এদিন সরব হন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল করে এসে তাঁরা থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সংগঠনের এক প্রতিনিধি ভিডিও বার্তায় জানান, শিলিগুড়ি শহরে বর্তমানে রাতের নিরাপত্তা একদম শূন্য হয়ে গিয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। সেবক রোডের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, একজন নিরীহ মানুষ ছাতা নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক মদ্যপ চালক তাঁকে পিষে দিয়ে চলে যায়, যার জেরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রাতের অন্ধকারে শহরের রাস্তায় এক শ্রেণির যুবসমাজ মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে চারচাকা গাড়ি চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, মেয়র এবং পুলিশ প্রশাসন সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলেও গ্রাউন্ড লেভেলে বা বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের রাতের টহলদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পুলিশের ভ্যানের নিজস্ব কোনো ইন্স্যুরেন্স বা লাইসেন্স নেই, পুলিশের গাড়ি এতটাই বেহাল যে বনেটও খুলে পড়ে যায়।
সংগঠনের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সেবক রোডের দুর্ঘটনায় ধৃত ব্যক্তি বর্তমান শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতার অন্তরঙ্গ হওয়ার কারণেই পুলিশ তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছিল। শুধুমাত্র বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চের আন্দোলনের ভয়েই তড়িঘড়ি অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেন ওই প্রতিনিধি। ধৃত ঘাতক চালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, শহরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করা হলে আগামীতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এদিন বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চের সভাপতি বিক্রমাদিত্য মণ্ডল বলেন, “শহরের প্রাণকেন্দ্রেও মানুষ নিরাপদ নন। পুলিশ কমিশনারেট নিরাপত্তার নামে ফাঁকা বুলি দিচ্ছে। দ্রুত দোষীর কঠোর শাস্তি এবং শিলিগুড়ি শহরে টহলদারি বাড়াতে হবে।” সংগঠনের অভিযোগ, শহরে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও দুষ্কৃতী হামলা ঘটলেও প্রশাসন নির্বিকার। নারী সুরক্ষাও এখন প্রশ্নের মুখে।
বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। পরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা থানায় গিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শহরে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊