'পার্টির জন্য খুন হতে বসেছিল প্রতিকুর, কারা মারতে চেয়েছিল সেটাও মনে রাখা দরকার', সরব শতরূপ
সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক জল্পনা এবং সংবাদমাধ্যমে দলের যুব নেতাদের মন্তব্য ঘিরে এবার মুখ খুললেন বাম নেতা শতরূপ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের আত্মত্যাগ, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সর্বোপরি যুবনেতা প্রতিকুর রহমানের লড়াই নিয়ে জোরালো বার্তা দিলেন।
সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শতরূপ বলেন, প্রতিকুর এর আগে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'-য় কম করে ৫০টি সমাবেশ করেছেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিজেপির বিরুদ্ধে হাজারটা কথা বললেও তার একটাও খবর হয়নি, কিন্তু সিপিআইএম-কে নিয়ে একটি কথা বলতেই সেটি খবর হয়ে গেল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কোন কথাটা খবর হবে আর কোনটা হবে না, সেটা যারা খবর করেন তারাই ঠিক করেন।
দলের তরুণ প্রজন্মের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে শতরূপ রেড ভলান্টিয়ারদের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, মাঝরাতে বিপদে পড়লে তৃণমূল বা বিজেপিকে পাওয়া যাবে না, ফোন করলে বামেদের ছেলেরাই গিয়ে পাশে দাঁড়াবে। কোভিডের সময় রেড ভলান্টিয়ারদের আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে তিনি আসানসোলের মাইকেল দা নামের এক কমরেডের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন। কোভিডের সময় মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজে সংক্রমিত হন এবং তাঁর স্ত্রী, বাবা, মা সহ পরিবারের চারজন মারা যান। শতরূপের মতে, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে কাজ করাই কমিউনিস্টদের ধর্ম; তাঁরা প্রতিদিন সাম্প্রদায়িকতা, পুঁজিবাদ, জমিদারতন্ত্র এবং নিজেদের ব্যক্তিগত লোভের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
প্রতিকুর রহমানের ওপর দলের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১২-১৫ বছর ধরে প্রতিকুর নিজের জীবন বিপন্ন করে দলের জন্য লড়াই করেছেন। সবশেষে, প্রতিকুরের একটি মন্তব্য— "পার্টির জন্য আমি প্রায় খুন হয়ে যাচ্ছিলাম"— এর সত্যতা স্বীকার করে শতরূপ এক চাঞ্চল্যকর স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কথাটা একদম সত্যি, তাকে প্রায় মেরেই ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল। মাঝরাতে খবর পেয়ে তারা ছুটে যান এবং তাকে কলকাতায় আর.এন. টেগোর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। একইসঙ্গে শতরূপের তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন, "পার্টির জন্য খুন হয়ে যাচ্ছিলাম— এটা যদি কারও মনে থাকে, তবে তাকে কারা খুন করছিল সেটাও নিশ্চয়ই মনে আছে।"

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊