'২৬-এ ডাবল ইঞ্জিন সরকার গড়লে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে'- দিনহাটায় হুঙ্কার নিশীথ প্রামাণিকের
নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সংগঠন মজবুত করতে ময়দানে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোরোডাঙ্গা এলাকায় সিতাই বিধানসভার ১, ৩ এবং ৫ নম্বর মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এক 'বুথ বিজয় অভিযান' কর্মশালায় যোগ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি-র রাজ্য সহ-সভাপতি নিশীথ প্রামাণিক।
এদিনের জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি রাজ্যে কর্মসংস্থান ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একাধিক দাবি পেশ করেন বিজেপি নেতৃবৃন্দ।
কর্মসংস্থান ও শিল্পের প্রতিশ্রুতি
নিশীথ প্রামাণিক তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের বেকার সমস্যাকে হাতিয়ার করেন। তিনি বলেন, "বর্তমানে এই রাজ্যে কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। পেটের টানে লক্ষ লক্ষ যুবক প্রতিদিন ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে ২৬-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপি-কে ক্ষমতায় এনে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।" তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং গৌড়বঙ্গ— সর্বত্রই শিল্পের জোয়ার আসবে।
এসআইআর ও 'ভুতুড়ে ভোটার' বিতর্ক
ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিশীথ প্রামাণিক অভিযোগ করেন, "গত লোকসভা ভোটের আগে প্রশাসনের মদতে কোচবিহারের ৪০০টি বুথের প্রতিটিতে ১০০ জন করে ভুয়ো বা ‘ভুতুড়ে ভোটার’ ঢুকিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু বর্তমানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তৃণমূলের সেই জারিজুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। সমস্ত ভুতুড়ে ভোটার বাতিল হচ্ছে।" আগামী নির্বাচনে বিজেপি কর্মীদের বুথে বুথে 'মাটি কামড়ে' পড়ে থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আক্রমণ
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী। তিনি বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে দায়ী করেন। কৈলাস চৌধুরী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি এ রাজ্যে প্রবেশ করছে। তারা আমাদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানে ভাগ বসাচ্ছে। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় তাদের নাম রাখার লড়াই করছেন।" তিনি হিন্দু ভোটারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে বিজেপি সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
এদিনের এই কর্মশালায় জেলা বিজেপি নেতা দীপক রায় সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পেটলা ও বড়শোলমারী সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক এই সমাবেশে অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিতাই বিধানসভা এলাকায় কর্মীদের চাঙ্গা করতেই এই বড়সড় কর্মসূচির আয়োজন করেছিল গেরুয়া শিবির।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊