রামকৃষ্ণ-কে 'স্বামী' সম্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী, বললেন 'আমি আবারও স্তম্ভিত'
যুগাবতার রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর জন্মতিথি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি আবারও স্তম্ভিত! বারবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলার মনীষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা ও অসংবেদনশীলতা আবারও প্রকট হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা ঐতিহ্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে অপ্রযোজ্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবেই পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আচার্যদেব নিজে সর্বদাই ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, রামকৃষ্ণ সংঘের পবিত্র ত্রয়ী ঠাকুর, মা ও স্বামীজি, এই পরিচিতিতেও তিনি ‘ঠাকুর’, সারদা দেবী ‘মা’ এবং স্বামী বিবেকানন্দ ‘স্বামীজি’ হিসেবেই সমাদৃত। তাঁর মতে, ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলা বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবহেলার পরিচয় বহন করে।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।”
সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন 'বঙ্কিমদা'। এবার জন্মতিথিতে ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে (Ramakrishna Paramahamsa) শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের 'ভুল' করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী। এক্স পোস্টে রামকৃষ্ণ পরমহংসকে তিনি সম্বোধন করলেন 'স্বামী' বলে। যা সচরাচর ব্যবহার করা হয় স্বামী বিবেকানন্দের নামের আগে।
প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলা হয়, 'স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী। উনি আধ্যাত্ম্য ও সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, সেটা বহু যুগ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে। ওঁর আদর্শ এবং বার্তা আগামী দিনে আমাদের প্রেরণা দেবে।'
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বস্তুত, মিশন ও মঠের সন্ন্যাসীদের নামের আগে 'স্বামী' সম্বোধন করা হলেও সচরাচর রামকৃষ্ণপরমহংসদেবের নামের আগে 'স্বামী' শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। রামকৃষ্ণদেবের ক্ষেত্রে ঠাকুর শব্ধটি সম্বোধন হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সংসদের বঙ্কিমকাণ্ডের পর রামকৃষ্ণদেবকে স্বামী সম্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর 'ভুল' অস্বস্তিতে ফেলবে বঙ্গ বিজেপিকে। আসলে ভোটের মুখে আদ্যপান্ত বাঙালি হওয়ার চেষ্টা করে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে বিজেপি, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊