'বন্দুক ঠেকিয়ে' জোরপূর্বক দলবদলের অভিযোগে চাঞ্চল্য দিনহাটায়
রাহুল দেব বর্মন, সংবাদ একলব্য: বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের দিনহাটায় চরম রাজনৈতিক নাটক। তৃণমূলে যোগদানের ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ফের বিজেপিতে ফিরে এলেন দিনহাটার প্রাক্তন তিন নম্বর মণ্ডল বিজেপি সভাপতি কমল বর্মন। তাঁর অভিযোগ, বন্দুক ঠেকিয়ে এবং অপহরণ করে জোরপূর্বক তাঁকে তৃণমূলের পতাকা ধরতে বাধ্য করা হয়েছিল। আজ কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন তিনি।
কমল বর্মনের অভিযোগ, গতকাল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁকে নিগমনগর বাজার থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে মারধর করে বন্দুকের নলের মুখে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং জোড়পূর্বক তৃণমূলে যোগদান করানো হয়। এই ঘটনার পর আজ তিনি সোজা কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে এসে নেতৃত্বদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সাংবাদিকদের কাছে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন।
বিজেপি নেতা অজয় রায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানান, নির্বাচনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতেই তৃণমূল এই ধরনের ঘৃণ্য রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। ভয় দেখিয়ে এবং জোর করে বিরোধী দলের নেতাদের নিজেদের দলে টেনে তৃণমূল নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মিথ্যা নাটক করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দিনহাটা ২ নম্বর ব্লক সভাপতি দীপক ভট্টাচার্য বিজেপির এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, "কমল বর্মন নিজেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের দলে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গতকাল তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বন্দুক ঠেকিয়ে বা জোর করে দলে টানার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জেলার রাজনীতিতে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জোরপূর্বক দলবদল নাকি স্বেচ্ছায় যোগদান— এই তরজায় সরগরম দিনহাটার রাজনৈতিক মহল।
সাংবাদিক-রাহুল দেব বর্মন
জন্মসূত্রে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার বাসিন্দা রাহুল দেব বর্মন ভূগোলে স্নাতক। ২০১৭ সাল থেকে তিনি পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি— সব ধরনের খবর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊