আটের দশকে ইমরান খানের প্রেমে হাবুডুবু খেতেন বলিউডের এই 'সেক্সবম্ব'
বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের এক জেলবন্দি প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়ক এবং বয়স পেরিয়েছে সত্তরের কোঠা। কিন্তু আজকের প্রজন্মের কাছে অজানা হলেও, আটের দশকে ইমরান খান কেবল একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারই ছিলেন না, ছিলেন উপমহাদেশীয় নারীদের ‘যৌন আকাঙ্ক্ষা’র এক মূর্ত প্রতীক।
বলিউড নায়িকাদের সঙ্গে এই 'হট' ক্রিকেটারের প্রেমের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। রেখা, শাবানা আজমি থেকে শুরু করে টলিউডের মুনমুন সেনের মতো সুন্দরীদের নামও জড়িয়েছিল তাঁর সঙ্গে। কিন্তু ক্রিকেট ও বিনোদন দুনিয়ার সবচেয়ে চর্চিত এবং বিস্ফোরক প্রেমের গল্পটি লুকিয়ে আছে অন্য এক বলিউড ‘সেক্সবম্ব’-এর সঙ্গে। আর সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করেছিলেন খোদ ইমরানের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান।
নিজের লেখা স্মৃতিকথায় রেহাম খান সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, বলিউডের এক যৌন আবেদনময়ী নায়িকার সঙ্গে ইমরানের প্রেমের কথা বিস্তারিত লিখেছিলেন। রেহামের দাবি অনুযায়ী, ইমরান নিজে তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, বম্বেতে ওই নায়িকার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। ইমরানের কথায়, তাঁর "শখ মেটার পর" তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চাইলেও, সেই নায়িকা নাকি তাঁকে লন্ডন পর্যন্ত ধাওয়া করেছিলেন!
রেহাম আরও একটি মারাত্মক দাবি করেছিলেন। তাঁর বই অনুযায়ী, সেই নায়িকার তৎকালীন বয়ফ্রেন্ড একটি হোটেলের পার্টিতে অতিথিদের সামনেই তাঁকে এমন বেধড়ক মারধর করেন যে, মেয়েটির বাম চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
তবে রেহাম খান নিজেই তাঁর বইতে জানিয়েছেন যে, তিনি এই 'গল্প'টির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন আসল ঘটনা ছিল ঠিক উল্টো! বিনোদন মহলে কান পাতলে শোনা যায়, ইমরান নিজেই ওই নায়িকার জন্য 'পাগল' ছিলেন। তিনিই বরং নায়িকাকে অনুসরণ করতেন এবং দামি দামি উপহার পাঠাতেন।
সাতের ও আটের দশকের বলিউডের ইতিহাস যারা জানেন, তাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এই নায়িকা আর কেউ নন— ‘দম মারো দম’ খ্যাত জিনাত আমন। ১৯৭৯-৮০ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দল যখন ভারত সফরে আসে, তখনই নাকি ইমরান ও জিনাতের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এমনকী, ইমরানের খেলা দেখতে সটান গ্যালারিতেও হাজির হয়েছিলেন জিনাত।
অন্যদিকে, জিনাতের চোখের এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী করা হয় তাঁর তৎকালীন প্রেমিক তথা বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় খানকে। যদিও ইমরানের কারণেই সঞ্জয় মেজাজ হারিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে আজও ধন্দ রয়েছে। অনেকের মতে, বিবাহিত সঞ্জয় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তাজ হোটেলে পার্টি করার সময় জিনাত সেখানে উপস্থিত হওয়াতেই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
সেই যুগে ইমরান ও জিনাতের জুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা থাকলেও, বাস্তবে তাঁদের একসঙ্গে পথ চলা হয়নি। দু'জনেই হেঁটে গিয়েছেন নিজেদের নির্ধারিত ভাগ্যপথে। বহু বছর পর এই প্রেমকাহিনি নিয়ে জিনাত আমনকে প্রশ্ন করা হলে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেছিলেন, "আমাদের অতীত নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো। আমাদের সন্তানেরা বড় হয়েছে। আমরা বুড়ো হয়েছি। যা অতীত তাকে অতীতেই থাকতে দিন।"
তাঁর এই স্তব্ধতাই যেন আজও সেদিনের সেই আগুনে সম্পর্কের গভীরতাকে প্রমাণ করে যায়।






0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊