প্রয়াত বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ তথা রাজ্যের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায় (Mukul Roy passes away)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কলকাতার সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরটি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়।
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত এবং স্নায়বিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা (Mukul Roy)। ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্সের মতো রোগের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কার্যত দূরে ছিলেন। পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর জীবনাবসান হয়।
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ এবং অত্যন্ত বর্ণময়। যুব কংগ্রেসের হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হলে, তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং তৃণমূল সুপ্রিমোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারে তাঁর দক্ষতার কারণে তাঁকে বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবেও অভিহিত করা হতো। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক অবদান ছিল। ২০১২ সালে ইউপিএ-২ সরকারের আমলে তিনি রেলমন্ত্রীর দায়িত্বভারও সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। সেখানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০২০ সালে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে তিনি জয়লাভ করেন। তবে নির্বাচনের পর, ওই বছরই জুন মাসে তিনি ফের তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন। যদিও ক্রমশ ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে এরপর থেকে তাঁকে আর রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়নি।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। দলমত নির্বিশেষে বহু নেতা, কর্মী ও অনুগামীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নেতার প্রয়াণে বঙ্গ রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
সাংবাদিকের নাম-সম্রাট দাস
মূলত ২০০৯ সাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু। উত্তরের সারাদিন পত্রিকায় শিক্ষাবিভাগে নিয়মিত লিখতেন। ২০১৭ সালে সংবাদ একলব্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বর্তমানে সংবাদ একলব্যে অবৈতনিক সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊