Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Solar Eclipse 2026: আজ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ, তৈরি হবে 'আগুনের বলয়' বা 'রিং অফ ফায়ার'

Solar Eclipse 2026: আজ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ, তৈরি হবে  'আগুনের বলয়' বা 'রিং অফ ফায়ার' 

সূর্যগ্রহণ ২০২৬, Annular Solar Eclipse 2026, Ring of Fire, ১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যগ্রহণ, আগুনের বলয়, ভারতে সূর্যগ্রহণ, মহাকাশ বিজ্ঞান, Solar Eclipse visibility. সূর্যগ্রহণ ২০২৬: ১৭ ফেব্রুয়ারি বছরের প্রথম 'আগুনের বলয়', জানুন বিস্তারিত



আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার মহাকাশে ঘটতে চলেছে এক অপূর্ব বিস্ময়। আজ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলয়াকার সূর্যগ্রহণ বা 'অ্যানুলার সোলার এক্লিপস' নামে পরিচিত। এই বিশেষ ধরনের গ্রহণটি সাধারণ মানুষের কাছে 'আগুনের বলয়' বা 'রিং অফ ফায়ার' নামেই বেশি জনপ্রিয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ভারতীয় মান সময় দুপুর ৩টা ২৬ মিনিটে শুরু হবে এবং এর চূড়ান্ত পর্যায় প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কীভাবে তৈরি হয় এই আগুনের বলয় বা রিং অফ ফায়ার

সূর্যগ্রহণ ২০২৬, Annular Solar Eclipse 2026, Ring of Fire, ১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যগ্রহণ, আগুনের বলয়, ভারতে সূর্যগ্রহণ, মহাকাশ বিজ্ঞান, Solar Eclipse visibility. সূর্যগ্রহণ ২০২৬: ১৭ ফেব্রুয়ারি বছরের প্রথম 'আগুনের বলয়', জানুন বিস্তারিত
Getty Images


সূর্যগ্রহণ মূলত তখন ঘটে যখন পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এই বলয়াকার গ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তার কক্ষপথের তুলনামূলকভাবে দূরতম স্থানে (অপভূ বা Apogee) অবস্থান করে। দূরত্ব বেশি থাকার কারণে পৃথিবী থেকে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ছোট দেখায় এবং এটি সূর্যের বিশাল আকারকে পুরোপুরি ঢেকে রাখতে ব্যর্থ হয়। এই সময়ে চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে দেয়, কিন্তু সূর্যের বাইরের দিকের উজ্জ্বল প্রান্তটি চাঁদের কালো অংশের চারপাশ দিয়ে দৃশ্যমান থাকে। চাঁদের চারধারে থাকা এই উজ্জ্বল বৃত্তাকার আলোর ছটাকেই বলা হয় আগুনের বলয়।

ভারতে কি দেখা যাবে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য?

ভারতীয় আকাশ পর্যবেক্ষক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রেমীদের জন্য কিছুটা হতাশার খবর হলো, এই অসাধারণ সূর্যগ্রহণটি ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। এই জ্যোতির্বিদ্যাগত ঘটনাটির মূল পথটি সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের চরম প্রান্তে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থান এবং পৃথিবীর বক্রতার কারণে ভারতে এটি সরাসরি দেখার কোনো সুযোগ থাকবে না। তাছাড়া গ্রহণের চরম মুহূর্তগুলোতে ভারতীয় দিগন্তের সাপেক্ষে সূর্যের অবস্থানের কারণে দেশের কোনো প্রান্ত থেকেই এই আগুনের বলয় প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হবে না। ভারতে দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এই গ্রহণের কোনো 'সূতক কাল' বা ধর্মীয় বিধিনিষেধও এ দেশে প্রযোজ্য হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

পৃথিবীর কোন কোন স্থান থেকে দেখা যাবে গ্রহণটি

এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণের দৃশ্যমানতা মূলত পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম এবং জনমানবহীন অঞ্চলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। 'রিং অফ ফায়ার'-এর সম্পূর্ণ পথটি অ্যান্টার্কটিকার বরফাচ্ছাদিত অঞ্চল এবং দক্ষিণ মহাসাগরের ওপর দিয়ে যাবে। বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত কনকর্ডিয়া এবং মির্নি গবেষণা কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা মুষ্টিমেয় কিছু বিজ্ঞানী এই বিরল দৃশ্যের সরাসরি সাক্ষী হতে পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, দুর্গম অবস্থানের কারণে মানুষের চেয়ে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনরাই এই গ্রহণের সবচেয়ে বড় দর্শক হতে চলেছে! সম্পূর্ণ আগুনের বলয় দেখা না গেলেও, আংশিক সূর্যগ্রহণ হিসেবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ যেমন আর্জেন্টিনা ও চিলির দক্ষিণ প্রান্তে দৃশ্যমান হবে।

কীভাবে অনলাইনে উপভোগ করবেন এই বিরল মুহূর্ত

সরাসরি আকাশ থেকে দেখতে না পেলেও মহাকাশ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী ব্যক্তিরা ঘরে বসেই এই রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হতে পারবেন। নাসা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সূর্যগ্রহণের সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করবে।

২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যগ্রহণটি প্রকৃতি এবং আমাদের সৌরজগতের এক জটিল ও নিখুঁত গতিশীলতার অসাধারণ প্রমাণ। পৃথিবী, সূর্য এবং চাঁদের এই বিরল জ্যামিতিক মিলন আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় মহাবিশ্বের অসীম বিশালতা এবং প্রকৃতির বিস্ময়কর ভারসাম্যের কথা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code