আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে E20 পেট্রোল! পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন নিয়ে কী জানাল সরকার?
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে গোটা দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ই২০ (E20) পেট্রোলের বিক্রি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন থেকে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি, এই জ্বালানির ন্যূনতম রিসার্চ অকটেন নম্বর (RON) ৯৫ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বা পরিস্থিতির জন্য সরকার সাময়িক ছাড় দিলেও, সার্বিকভাবে এই নিয়ম কড়াভাবেই কার্যকর হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, বাজারে এই ই২০ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৭ টাকা থেকে ১০৬ টাকার মধ্যে থাকতে পারে।
এই ই২০ পেট্রোল মূলত ৮০ শতাংশ সাধারণ পেট্রোল এবং ২০ শতাংশ ইথানলের মিশ্রণ। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই সরকারের এই বড় পদক্ষেপ। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ফলে ভারতের ইতিমধ্যে ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। এতে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
তবে এই নতুন নিয়মের ফলে পুরনো গাড়ির মালিকদের মধ্যে বেশ কিছু উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বহু গাড়ি বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, ২০২০ বা ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলিতে ই২০ পেট্রোল ব্যবহার করলে মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ দ্রুত খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই দাবিগুলিকে প্রথমে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছিল এবং জানিয়েছিল যে ই২০ পেট্রোল পুরনো গাড়ির জন্যও নিরাপদ। তবে মন্ত্রক একথাও স্বীকার করেছে যে, কিছু পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে। এছাড়া, প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার কিলোমিটার অন্তর রবার পার্টস এবং ইঞ্জিন গ্যাসকেট বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা সাধারণত গাড়ির নিয়মিত মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণের অংশ।
গাড়ি চালকদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, তাঁদের গাড়িটি ই২০ পেট্রোলের জন্য উপযুক্ত কি না তা যাচাই করা। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে তৈরি হওয়া বিএস-৬ ফেজ-২ (BS6 Phase 2) ইঞ্জিনযুক্ত গাড়িগুলি সম্পূর্ণভাবে ই২০ পেট্রোল সমর্থন করে। গাড়ির ফুয়েল ক্যাপ বা ম্যানুয়াল বুকে 'E20' বা 'E10/E20' লেখা থাকলে বুঝতে হবে গাড়িটি এই নতুন জ্বালানির জন্য প্রস্তুত। তবে পুরনো মডেলের গাড়ি, যেগুলি ই২০-র জন্য ডিজাইন করা হয়নি, সেগুলিতে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে ফুয়েল ইনজেক্টর, প্লাস্টিক ও রবারের যন্ত্রাংশ বা গ্যাসকেট দ্রুত নষ্ট হতে পারে এবং এর ফলে গাড়ি মালিকদের মেইনটেন্যান্স খরচ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊