কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সঞ্চারী রায় মুখার্জি, জোর দিলেন পরিকাঠামো উন্নয়নে
রাহুল দেব বর্মন, সংবাদ একলব্য: রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাতের জেরে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে চলা জটিলতার অবশেষে অবসান ঘটল। আদালতের নির্দেশে কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অধ্যাপক সঞ্চারী রায় মুখার্জি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত পূরণের বিষয়ে তিনি জোর দেন। প্রথমেই তিনি রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সাথে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এবং ফেলে রাখা কাজগুলি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা নেওয়ার কথা জানান।
স্থায়ী উপাচার্যের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল, ফাইন্যান্স কমিটি, পার্চেজ কমিটি এবং ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিটিংগুলি দ্রুত চালু করার বিষয়ে তিনি জোর দেন, যাতে আটকে থাকা কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকটিতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, নতুন প্রশাসনিক ভবনে কাজ শুরু হলে বেশ কিছু নতুন ক্লাসরুম পাওয়া যাবে, যা বর্তমান পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এমপ্লয়েবিলিটি (employability) বা কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে এমন নতুন কিছু 'মডার্নাইজড' বা আধুনিক সাবজেক্ট চালু করার বিষয়েও তিনি আশাবাদী।
স্থায়ী উপাচার্যের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তন বা কনভোকেশন আটকে থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তিনি জানান, শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, রাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই একই অবস্থা। এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কীভাবে দ্রুত প্রভিশনাল সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। সমাবর্তনের বিষয়ে তিনি জানান, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আচার্য বা চ্যান্সেলরের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, তবে তিনি এই বিষয়েও উদ্যোগী হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার কাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তিনি বিশেষ নজর দেবেন। পিএইচডি কোর্সওয়ার্ক এবং স্কলার নিয়োগের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন উপাচার্যের আগমনে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সকলে আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন দিশা পাবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊