আজ ভারত বনধ: কেন দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিল ট্রেড ইউনিয়ন? জানুন সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে
নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শ্রম অধিকার রক্ষা, বেসরকারীকরণ বন্ধ এবং বিতর্কিত শ্রম নীতি বাতিলের দাবিতে আজ, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। বুধবার মধ্যরাত থেকেই এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ব্যাংক পরিষেবা থেকে শুরু করে গণপরিবহন—আজকের ভারত বনধে সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
কেন এই ধর্মঘটের ডাক?
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (INTUC), অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC), সিটু (CITU) এবং হিন্দ মজদুর সভা (HMS)-সহ দেশের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটের নেতৃত্বে রয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ কেন্দ্রের নতুন শ্রম নীতি এবং বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে।
ইউনিয়নগুলোর দাবি, ২৯টি শ্রম আইনকে একীভূত করে যে ৪টি নতুন শ্রম কোড (Labor Codes) আনা হয়েছে, তা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী। এর ফলে মালিকপক্ষ যখন খুশি কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারবে এবং কাজের নিরাপত্তা বা ‘জব সিকিউরিটি’ বিঘ্নিত হবে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি।
ধর্মঘটীদের প্রধান দাবিগুলি কী কী?
বিক্ষোভকারী ইউনিয়নগুলোর দাবিপত্র বেশ দীর্ঘ, তবে মূল ফোকাস বা প্রধান দাবিগুলি হলো:
- ৪টি শ্রম কোড বাতিল: অবিলম্বে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নতুন শ্রম কোড প্রত্যাহার করতে হবে।
- বেসরকারীকরণ বন্ধ: লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সরকারি দপ্তরের বেসরকারীকরণ বন্ধ করতে হবে।
- বিদ্যুৎ ও কৃষি বিল: বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল এবং খসড়া বীজ বিল বাতিল করতে হবে।
- গ্রামীণ কর্মসংস্থান: মনরেগা (MNREGA)-র আদলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজের দিন এবং মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।
- বাণিজ্য চুক্তি: ভারতের কৃষি সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে বহুজাতিক সংস্থার স্বার্থে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।
শ্রমিকদের এই ধর্মঘটে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) এবং অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা (AIKS)। বিশেষ করে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় কৃষকরাও আজ রাস্তায় নামছেন। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতীয় কৃষিকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেবে। আজ দেশের প্রায় ১০০০টি স্থানে যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
আজকের বনধে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং এবং পরিবহন সেক্টরে।
- ব্যাংকিং পরিষেবা: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মীরা এই ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় নগদ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স এবং এটিএম পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তবে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে কাজ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
- গণপরিবহন: দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে বাস ও ট্যাক্সি পরিষেবা বিঘ্নিত হতে পারে। রেল পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসন তৎপর থাকলেও বেশ কিছু জায়গায় অবরোধের আশঙ্কা রয়েছে।
- অন্যান্য: স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও পরিবহনের অভাবে হাজিরা কম হতে পারে। তবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি পরিষেবাগুলি ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আজকের দিনটি সরকার এবং শ্রমিক সংগঠন—উভয়ের জন্যই একটি শক্তি পরীক্ষার দিন। ট্রেড ইউনিয়নগুলো চাইছে তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রদর্শন করতে, যাতে সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ