Bangladesh Election 2026: আওয়ামি লিগহীন ভোটে নজরে ‘জুলাই সনদ’, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা: প্রবল রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় সহিংসতার আবহেই আগামিকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন দেখছে প্রতিবেশী দেশ। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান দল আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করায় এবং নির্বাচনের ঠিক আগে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় এই ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। ভারত, আমেরিকা, চিন ও পাকিস্তান সহ গোটা বিশ্ব গভীর নজর রাখছে ঢাকার পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ (Bangladesh Election 2026) চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটদানের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। কারণ, ভোটাররা এবার শুধু সংসদীয় আসনের জন্যই ভোট দেবেন না, একইসঙ্গে একটি সাংবিধানিক গণভোট বা ‘জুলাই সনদ’-এর জন্যও রায় দেবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানের বড়সড় পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই গণভোটের আয়োজন করেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২.৭৭ কোটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬.৪৮ কোটি এবং মহিলা ভোটার ৬.২৮ কোটি। নতুন ভোটার বা তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা প্রায় ৪৫.৭০ লক্ষ। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রায় ১.৫ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশ থেকে ডাক ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। মূল লড়াই মূলত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল ‘জাতীয় নাগরিক দল’ (এনসিপি)-এর মধ্যে। এছাড়া জাতীয় পার্টির দুই অংশ এবং বাম গণতান্ত্রিক জোটও ময়দানে রয়েছে। মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ৭৬ জন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে প্রায় ২০০০-এর বেশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে, গত ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসি (OIC)-সহ বিভিন্ন সংস্থার ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা ইস্যু সামনে এসেছে:
ব্যালটেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পরবর্তী অধ্যায়।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ