রাজ্যের অর্থনীতির ‘অভূতপূর্ব’ উত্থান ও কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা – অমিত মিত্রের বিশ্লেষণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পর রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অমিত মিত্র একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ঋণের বোঝা কমানোর পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
ড. মিত্র জানান, ২০১০-১১ সালে রাজ্যের বাজেটের আকার ছিল ৮৪,০০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা ৫ গুণ বেড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি, রাজ্যের নিজস্ব কর আদায় ২১,১২৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,১৮,৬৬৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫.৪ গুণ বৃদ্ধি।
উন্নয়নমূলক কাজে বা মূলধনী ব্যয় (Capital Outlay) ১৮.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০-১১ সালে যা ছিল ২,২২৬ কোটি টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১,৩১৫ কোটি টাকায়। এটি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতি সরকারের গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
১. সামাজিক ও কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ:
- কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন: এই খাতে বরাদ্দ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- সামাজিক পরিষেবা (Social Services): শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যয় ১৮ গুণ বেড়ে ৬,৮৪৬ কোটি থেকে ১,২০,৯৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অমিত মিত্র দাবি করেন, রাজ্য সরকার কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার (Fiscal Prudence) পরিচয় দিয়েছে।
- রাজস্ব ঘাটতি (Revenue Deficit): ৩.৭৫% থেকে কমিয়ে ১.০১%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
- ফিসকাল ডেফিসিট: ৪.২৪% থেকে কমিয়ে ২.৯১%-এ নামানো হচ্ছে।
- ঋণের বোঝা: জিএসডিপির অনুপাতে ঋণের পরিমাণ ৪০.৬৫% থেকে কমিয়ে ৩৭.৯৮%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বতন বাম সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা শোধ করেও এই সাফল্য এসেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লেবার ফোর্স সার্ভে’র তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার প্রায় ৪৫.৬৫% হ্রাস পেয়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক ভালো।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৫৪% এবং ফিসকাল ডেফিসিট ৪.৪%, যা রাজ্যের তুলনায় বেশি। অথচ রাজ্যকে বারবার আর্থিক শৃঙ্খলার পাঠ পড়ানো হয়।
অমিত মিত্রের এই পরিসংখ্যান মূলত বিরোধীদের সেই অভিযোগকে খণ্ডন করার চেষ্টা, যেখানে বলা হয় রাজ্য ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, ঋণের টাকা এখন শুধু বেতন দিতে নয়, বরং ৪৫% সম্পদ সৃষ্টিতে (Asset Creation) ব্যয় হচ্ছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির স্বাবলম্বী হওয়ার ইঙ্গিত।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊