পশ্চিমবঙ্গে নতুন পে কমিশন ও বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং নতুন পে কমিশন গঠনের দাবিতে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসাম নতুন পে কমিশন ঘোষণা করলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এ বিষয়ে নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মচারী সংগঠনগুলো।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও দাবি:
ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রোপা (ROPA) অনুযায়ী কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে । এই পরিস্থিতির প্রতিকারে এবং নতুন পে কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মাননীয় রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছে ।
কর্মসূচির রূপরেখা:
রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করার পর সংগঠনগুলো প্রতিটি ব্লক, মহকুমা এবং জেলা স্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপগুলো নিম্নরূপ:
মহাসমাবেশ: আগামী ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দুপুর ১২টা থেকে কলকাতার শহীদ মিনারে এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভ ও মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন অভিযান: সরকারের পক্ষ থেকে সদর্থক সাড়া না মিললে ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করা হবে ।
ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি: আলোচনা বা সমাবেশের মাধ্যমে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে লাগাতার ধর্মঘটের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ।
প্রধান দাবিগুলো:
১. অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো।
২. নতুন পে কমিশন গঠন করা।
৩. সরকারি শূন্যপদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
৪. দীর্ঘদিনের চাকরিপ্রার্থীদের সাথে আলোচনা করে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা ।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই সমস্ত দাবি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পূরণ করতে হবে । তাঁরা আরও সতর্ক করেছেন যে, নবান্ন অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে । আপাতত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখলেও, দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের সংকল্প নিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊