চন্দ্রকোনা থানায় শুভেন্দু অধিকারীর ধর্না অবস্থান, কনভয়ে হামলার অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি
চন্দ্রকোনা, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগে গতকাল, শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোড এলাকা। হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউসের ভেতরেই ধর্নায় বসেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার পুরুলিয়ায় একটি রাজনৈতিক জনসভা শেষ করে সড়কপথে মেদিনীপুরে ফিরছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৮টা ২০ থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁর কনভয়ের ওপর চড়াও হয়। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন যে, রাজ্যে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হামলার ঘটনার পরেই শুভেন্দু অধিকারী সোজা চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউসে প্রবেশ করেন এবং সেখানেই মাটিতে বসে ধর্না শুরু করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি সেখান থেকে নড়বেন না। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থান কর্মসূচি চলে। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও থানার বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন।
থানায় বসে সংবাদমাধ্যমকে বিরোধী দলনেতা জানান, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের সামনেই আমার ওপর হামলা হয়েছে। এরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রশাসন ও পুলিশ গুন্ডাদের মদত দিচ্ছে। দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে উঠব না।"
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় যখন যাচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিজেপি কর্মীরা উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। এর পাল্টা স্লোগান দেয় তৃণমূল কর্মীরাও। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তারা দাবি করেছে। তাদের মতে, এটি বিজেপির রাজনৈতিক নাটক।
বিরোধী দলনেতার এই ধর্না অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। অন্যদিকে, শাসকদলের দাবি, ভোটের আগে সহানুভূতি আদায়ের জন্যই বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊