Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

কার্সিয়াংয়ের অরণ্যে চমক! ট্র্যাপ ক্যামেরায় ফের বন্দি বিরল 'ব্ল্যাক প্যান্থার', উচ্ছ্বসিত বনমহল

কার্সিয়াংয়ের অরণ্যে চমক! ট্র্যাপ ক্যামেরায় ফের বন্দি বিরল 'ব্ল্যাক প্যান্থার', উচ্ছ্বসিত বনমহল

Black Panther, Kurseong Forest, Melanistic Leopard, North Bengal Wildlife, Forest Department, Trap Camera Footage, Rare Sighting, Biodiversity, ব্ল্যাক প্যান্থার, কার্সিয়াং, বন দপ্তর, মেলানিস্টিক লেপার্ড, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, বন্যপ্রাণী


নিজস্ব সংবাদদাতা, কার্সিয়াং: উত্তরবঙ্গের রহস্যময় পাহাড়ি অরণ্য ফের তার জাদুকরী রূপ দেখাল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কার্সিয়াং বনাঞ্চলের গভীরে ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির মেলানিস্টিক লেপার্ড, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ (Black Panther) নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৫ সালের পর ফের এই রাজকীয় প্রাণীর দর্শন মেলায় খুশির হাওয়া বনকর্মী থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মহলে।

বন দপ্তর সূত্রে খবর, কার্সিয়াং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য জঙ্গলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডর বা চলাচলের পথে আধুনিক ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয় বন আধিকারিকদের। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে রাজকীয় চালে হেঁটে যাচ্ছে এক কুচকুচে কালো চিতা (Black Panther)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আলাদা কোনো প্রজাতি নয়, বরং সাধারণ লেপার্ড বা চিতাবাঘ। জিনগত কারণে শরীরে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের আধিক্য ঘটলে এদের গায়ের রং কালো হয়ে যায়। বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রাণীটির গায়ের রং কালো হলেও, উজ্জ্বল আলো বা নির্দিষ্ট কোণ থেকে দেখলে এর শরীরেও সাধারণ লেপার্ডের মতো ছোপ বা ‘rosettes’ লক্ষ্য করা যায়। ফুটেজে প্রাণীটির তীক্ষ্ণ চাহনি এবং সুস্থ সবল গঠন স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে।

২০২৫ সালের পর ফের এই বিরল দর্শন কার্সিয়াং বনাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ব্ল্যাক প্যান্থারের (Black Panther) মতো ‘টপ প্রিডেটর’ বা শীর্ষ শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এই জঙ্গল এখনও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এখানে বন্যপ্রাণীদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল রয়েছে।

এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে বন প্রশাসন। যে এলাকায় ব্ল্যাক প্যান্থারটির দেখা মিলেছে, সেখানে নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চোরাশিকারিদের হাত থেকে এই বিরল প্রাণীকে রক্ষা করতে পেট্রোলিং বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code