গৃহে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে পৌষ পূর্ণিমার মাহাত্ম্য অনেক, জানুন বিস্তারিত
-ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সনাতন ধর্মে পৌষ পূর্ণিমা একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এই তিথিকে আধ্যাত্মিক মুক্তি ও মোক্ষর সঙ্গে সংযুক্ত করে দেখা হয়।
এই তিথি থেকেই এক মাসব্যাপী পবিত্র 'মাঘ স্নান' ব্রতের সূচনা হয়, যা চলে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত। এই তিথিতে এক মাসব্যাপী কৃচ্ছ্রসাধন পালন করারও রীতি প্রচলিত আছে। একে বলে 'কল্পবাস'।
এই পৌষ পূর্ণিমাকে 'শাকম্ভরী পূর্ণিমা'ও বলা হয়। কারণ এই পূর্ণিমায় পূজিত হন দেবী শাকম্ভরী। লোক বিশ্বাস - এই তিথিতেই আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী শাকম্ভরী।
পৌষ পূর্ণিমাকে ধান্য পূর্ণিমাও বলা হয়। এই পূর্ণিমায় দেব-দেবীর উদ্দেশে ধান নিবেদনের রীতি বহুল প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয় - এই তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে শস্যের ভাণ্ডার তথা ধান রাখার গোলা কখনও শূন্য হয় না। এই তিথিতে চাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পিঠা দেব- দেবীদের উদ্দেশে নিবেদন করা হয়। পৌষ পূর্ণিমায় অন্ন দান করাকেও অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
গৃহে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে অনেক পরিবারে এই পৌষ পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণের, সঙ্গে দেবী লক্ষ্মীর, কোথাও আবার দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়।
দেবী শাকম্ভরীর পুজোতে ফলমালা দেওয়ার প্রথা আছে। দেবীর উদ্দেশে বহু ক্ষেত্রে শাকও নিবেদন করা হয়। কারণ শতবর্ষ অনাবৃষ্টি হলে দেবী নিজ দেহ থেকে উৎপন্ন শাক দিয়ে পৃথিবীর লোকের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
এই শুভ তিথিতে গঙ্গা - যমুনার মতো পবিত্র নদীতে স্নান করার প্রথা আছে। শ্রদ্ধালুরা বিশ্বাস করেন - এই স্নানের ফলে অতীতের সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় এবং আত্মা জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ করে।
এই তিথিতে সুস্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি কামনায় ভক্তরা সূর্য ও চন্দ্র দেবতার পুজো করেন। প্রদান করা হয় অর্ঘ্যও।
এই তিথির ব্রত কথা স্মরণ করে অনেকে দেবী চণ্ডীর উপাসনা করেন এই পবিত্র তিথিতে। কারণ ব্রত কথাতে আছে - এই তিথি উদযাপন করলে শুধু পুত্র লাভ হয় তাই নয়, পুত্রের অকাল মৃত্যুযোগও বিনষ্ট হয়।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊