ইরানে 'যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি', দেশে ফিরে মোদী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ভারতীয়রা
![]() |
নয়াদিল্লি: ইরানে চলমান ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও অস্থিরতার মাঝেই শুক্রবার সুস্থ ও নিরাপদে দেশে ফিরলেন বহু ভারতীয় নাগরিক। দিল্লি বিমানবন্দরে পা রেখেই তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং কঠিন সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফিরে আসা যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। তাঁদের মতে, ইরানের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ। এক যাত্রী জানান, "সেখানে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না, যা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।"
আরেকজন ভারতীয় নাগরিক, যিনি কাজের সূত্রে এক মাসের জন্য ইরান গিয়েছিলেন, জানান যে গত এক-দুই সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। তিনি বলেন, "বাইরে বেরোলেই বিক্ষোভকারীরা গাড়ির সামনে চলে আসত এবং পথ আটকে দিত। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।" তবে, কেউ কেউ জানিয়েছেন যে নেটওয়ার্ক সমস্যা ছাড়া পরিস্থিতি তাদের এলাকায় কিছুটা স্বাভাবিক ছিল।
দেশে ফিরে সরকারের সহায়তায় মুগ্ধ যাত্রীরা। এক যাত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "যদি মোদীজি থাকেন, তাহলে সবকিছুই সম্ভব।" ভারতীয় দূতাবাস তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে দ্রুত ইরান ত্যাগের ব্যবস্থা করা হবে।
বিমানবন্দরে অপেক্ষারত পরিবারের সদস্যরাও স্বজনদের ফিরে পেয়ে আনন্দিত। এক ব্যক্তির শ্যালিকা ইরান থেকে ফিরেছেন। তিনি বলেন, "ইন্টারনেট না থাকায় আমরা তিন দিন ধরে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার শ্যালিকাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ।"
তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যেই ইরানে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি থেকে জারি করা নির্দেশিকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের ইরান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ জানুয়ারি, ইরানে বসবাসরত ভারতীয়দের বিক্ষোভে অংশ না নিতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এই ক্ষোভের প্রধান কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন জল সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, যা সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊