Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের আধিপত্য অব্যাহত! টানা চতুর্থ বছর কমল চিনের লোকসংখ্যা, জন্মহার হ্রাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বেজিং

জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের আধিপত্য অব্যাহত! টানা চতুর্থ বছর কমল চিনের লোকসংখ্যা, জন্মহার হ্রাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বেজিং

China Population Crisis 2026, India vs China Population, Birth Rate Decline, One Child Policy Impact, চিনের জনসংখ্যা হ্রাস, ভারত ও চিন, জন্মহার ১৭% কমল, জনতাত্ত্বিক সংকট, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, China Demographics.

বেজিং/নয়াদিল্লি: বিশ্ব জনসংখ্যার মানচিত্রে বড়সড় রদবদল আগেই ঘটেছিল, এবার তা আরও প্রকট হলো। এক সন্তান নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে চিন এখন এক গভীর জনতাত্ত্বিক সংকটের (China Population Crisis 2026) মুখে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, টানা চতুর্থ বছরের মতো চিনের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালেই চিনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের তকমা দখল করেছে ভারত।

সোমবার প্রকাশিত চিনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিনের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১.৪০৪ বিলিয়ন (১৪০.৪ কোটি)। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ লক্ষ কম। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নতুন প্রজন্মের আগমনের হার। তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে চিনে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৯.২ লক্ষ। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৬.২ লক্ষ বা প্রায় ১৭ শতাংশ কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চিনের ইতিহাসে জন্মহারের এই পতন নজিরবিহীন।

কয়েক দশক ধরে কঠোর 'এক সন্তান নীতি' (One Child Policy) পালন করার পর, জনসংখ্যায় ভাটা দেখে চিন সরকার সতর্ক হয়। ২০১৫ সালে দম্পতিদের দুই সন্তানের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে তা বাড়িয়ে তিন সন্তান করা হয়। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও দম্পতিদের মধ্যে সন্তান নেওয়ার আগ্রহ ফেরেনি। দীর্ঘদিনের এই নীতির ফলে সমাজে যে মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোতাতগত পরিবর্তন এসেছে, তা রাতারাতি বদলানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে অর্থনৈতিক চাপ। চিনের বর্তমান প্রজন্মের কাছে শিশু লালন-পালনের খরচ আকাশচুম্বী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাসস্থানের খরচ এতটাই বেড়েছে যে, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির পক্ষে একাধিক সন্তান নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিনের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার লড়াই এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টা (996 work culture) দম্পতিদের সন্তান নেওয়া থেকে বিমুখ করছে। বর্তমানে চিনের অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়ায় পরিবারগুলি ভবিষ্যতের বারতি খরচ নিয়ে শঙ্কিত।

জনতত্ত্ববিদদের মতে, একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রজনন হার বা 'ফার্টিলিটি রেট' অন্তত ২.১ হওয়া প্রয়োজন। সেখানে চিনের প্রজনন হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ১-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে। সরকার নগদ ভর্তুকি, কর ছাড় এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো নানা সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করলেও তা নিম্নমুখী গ্রাফকে ঊর্ধ্বমুখী করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জনসংখ্যা হ্রাস এবং জন্মহার কমে যাওয়ার অর্থ হলো চিনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে চিনের অর্থনীতি, পেনশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যখাতের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে। অন্যদিকে, ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের আধিক্য আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code