বেসরকারি স্কুলে ফি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর, অভিভাবকদের হাতে থাকছে ভেটো ক্ষমতা
দিল্লি সরকার এবার রাজ্যের সমস্ত ১,৭০০টি বেসরকারি স্কুলে স্কুল ফি নিয়ন্ত্রণের নতুন আইন কার্যকর করল। “দিল্লি স্কুল এডুকেশন (ফি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা) বিল, ২০২৫” নামে এই আইনটি সদ্য মনসুন অধিবেশনে পাস হয়েছে এবং এর মাধ্যমে অভিভাবকদের সরাসরি ফি বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশীষ সুদ শুক্রবার জনকপুরীতে আয়োজিত “প্যারেন্টস’ টাউন হল” অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এতদিন ১৯৭৩ সালের পুরনো নিয়মে মাত্র ৩০০টি স্কুল এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় ছিল, কিন্তু এবার সমস্ত বেসরকারি স্কুলকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে স্কুল ফি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসবে।
নতুন আইনের অধীনে প্রতিটি স্কুলে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে অভিভাবক, শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটি ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে এবং তা অনুমোদন করবে। অভিভাবকদের দেওয়া হয়েছে ভেটো ক্ষমতা—যদি তারা কোনো ফি বৃদ্ধি অযৌক্তিক মনে করেন, তাহলে তা বাতিল করতে পারবেন।
জেলা স্তরের কমিটি ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্কুল কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। যদি কোনো সিদ্ধান্ত ৪৫ দিনের মধ্যে না হয়, তাহলে বিষয়টি আপিল কমিটির কাছে পাঠানো যাবে।
আইনে কঠোর জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। কোনো স্কুল যদি সরকারের অনুমোদন ছাড়া ফি বাড়ায়, তাহলে তাদের ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। অতিরিক্ত ফি ফেরত না দিলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আশীষ সুদ বলেন, এই আইন শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করতে এবং ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে তৈরি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো কখনোই একটি স্বচ্ছ ফি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি, যার ফলে অভিভাবকরা বারবার অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবার সরকারি স্কুলের দুরবস্থা—পরিকাঠামোর অভাব ও সম্পদের ঘাটতির কারণে—বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন। তাই এই আইন শুধু ফি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং অভিভাবকদের হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দিল্লি দেশের প্রথম শহরগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠল, যারা সমস্ত বেসরকারি স্কুলকে একটি পূর্ণাঙ্গ ফি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় এনেছে। এটি স্কুল প্রশাসনে জবাবদিহিতা এবং অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অংশগ্রহণের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ