হারিয়ে যাওয়ার পথে লোকসঙ্গীতের বাদ্যযন্ত্র গুলি- Folk music instruments
তপন বর্মন, সংবাদ একলব্য:
সারা পৃথিবীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ন লোকসঙ্গীত হল ভাওয়াইয়া। পশ্চিমবাংলার উত্তরাঞ্চল,অসমের বৃহত্তর গোয়ালপাড়া,বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল,বিহার,নেপালের কিয়দংশ জুড়ে ভাওয়াইয়া গানের বিস্তৃত পরিসর।এই গানের মায়াময় সুর এবং এই গানের সঙ্গে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের ঝংকার , ভাওয়াইয়া গানকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ভাওয়াইয়া গান মানেই একতারা, দোতরা, সারিন্দা, খমক , ঢোল, মন্দিরা, খঞ্জরী ও ঘুঙুরের নিক্কন। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের পালাগান, ভাওয়াইয়া, যাত্রাপালা কিংবা বাউল গানের আসরে ছন্দ দিতো এইসব বাদ্যযন্ত্র। এইসব দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে উঠত জীবন্ত সুর। বাদকের প্রচেষ্টায় সেই সুরে প্রাণ ছিল ,যা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেত।
যদিও আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের শব্দে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য গুলি। সারিন্দা, খমক,ঢোল, বাঁশি প্রভৃতি লোকজ অনুসঙ্গ গুলির বদলে ব্যবহার হচ্ছে প্যাড, অরগান, গিটার, বেহালা প্রভৃতি আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। এর ফলে নতুন প্রজন্ম যেমন নিজেদের লোকজ সংস্কৃতি চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বাংলার প্রাণের গান হারাচ্ছে নিজস্বতা।
তবে কী হারিয়ে যাবে লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র গুলি? এর মধ্যে গোসানীমারী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভীতর কামতা গ্রামের নিবারণ বর্মনের বাড়িতে এক ভীন্ন দৃশ্য উঠে এল। তিনি একতারা, সারিন্দা ,খমক সহ ভাওয়াইয়া গানে ব্যবহৃত সকল বাদ্য যন্ত্র নিজেই নিখুঁত ভাবে তৈরি করেন। সেই সাথে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি তৈরি করছেন দক্ষ যন্ত্র বাদক। প্রতিটি লোকজ অনুসঙ্গকে তিনি যথেষ্ট দক্ষতার সাথে বাজিয়ে মন জয় করেন শ্রোতাদের।



হারিয়ে যাচ্ছে একতারা, সারিন্দা, ঘুল্টুং এর মতো লোকসঙ্গীতের বাদ্যযন্ত্র গুলি |
উত্তরমুছুনশুনুন এদের