Advertisement

শিলিগুড়ির মাটিতে বিদেশি ফল চাষের পরীক্ষা, কৃষকদের সামনে খুলতে পারে আয়ের নতুন দিশা

Advertisement
White strawberry cultivation Siliguri North Bengal University COFAM
ছবি: সংগৃহীত

অমিত বনিক, শিলিগুড়ি: কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে এবার উত্তরবঙ্গের মাটিতে এক অভিনব পরীক্ষা। এতদিন পরিচিত লাল স্ট্রবেরির চাষ হলেও এবার নজর কাড়ছে বিরল সাদা স্ট্রবেরি (White strawberry cultivation Siliguri)। বিদেশের বাজারে পরিচিত এই ফলের চাষ উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় কতটা সফল হতে পারে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে গবেষণা। আর এই উদ্যোগকে ঘিরেই আশার আলো দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও। সঠিক পরিবেশে এই ফল উৎপাদন সম্ভব হলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনা (National News Bengali)।

শিলিগুড়িতে পরীক্ষামূলক চাষ

সেই লক্ষ্যেই শিলিগুড়ির পতিরাম জোতে (Patiram Jote white strawberry) কয়েকজন কৃষককে নিয়ে শুরু হয়েছে সাদা স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষ। উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের COFAM বিভাগ (COFAM North Bengal University)। মূলত এখানকার মাটি, জলবায়ু এবং তাপমাত্রার সঙ্গে এই বিদেশি ফল কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গত বছর পুনেতে পরীক্ষামূলক চাষে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ার পর এবার উত্তরবঙ্গেও এই চাষের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত হলেও দেশের কৃষিক্ষেত্রে এখনও সাদা স্ট্রবেরির চাষ যথেষ্ট সীমিত (Siliguri agriculture news)।

আর্থিক সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

এই ফলকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকার ও গুণমানের ভিত্তিতে একটি সাদা স্ট্রবেরির দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে প্রতি কেজি ফলের দাম হাজার টাকা বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প জমিতে এই ধরনের উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন করা গেলে কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। সাধারণ স্ট্রবেরির মতোই বেলে-দোআঁশ মাটিতে বেড তৈরি করে জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে চারা রোপণ করা সম্ভব। উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলে চারা লাগানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফল আসতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সমতলের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা এই চাষের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। সাদা স্ট্রবেরির জন্য আনুমানিক ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুকূল বলে জানা যাচ্ছে। অথচ গরমের সময় শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় পারদ ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে গাছের বৃদ্ধি, ফুল আসা এবং ফলের গুণমান কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। COFAM বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার অমরেন্দ্র পান্ডে জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় এই ফলের অভিযোজন ক্ষমতা যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

ভবিষ্যতের চারা উৎপাদনের সম্ভাবনা

গবেষকদের পরিকল্পনা শুধু সাদা স্ট্রবেরি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে এই ফলের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উত্তরবঙ্গকে সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। অমরেন্দ্র পান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ির সমতলে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি মংপু ও মিরিকের মতো অপেক্ষাকৃত শীতল এলাকায় ডটার প্ল্যান্ট বা নতুন চারা তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে এই ফলের চারা সহজে পাওয়া যায় না এবং প্ল্যান্টিং ম্যাটেরিয়ালের দামও তুলনামূলক বেশি। তাই স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন সম্ভব হলে কৃষকদের খরচ কমার পাশাপাশি অন্য রাজ্যে চারা সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। এখন পরীক্ষার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। পতিরাম জোতের এই উদ্যোগ সফল হলে উত্তরবঙ্গের কৃষিতে সাদা স্ট্রবেরি হয়ে উঠতে পারে এক নতুন আকর্ষণ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. শিলিগুড়ির কোথায় সাদা স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে?

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের COFAM বিভাগের উদ্যোগে শিলিগুড়ির পতিরাম জোতে কৃষকদের নিয়ে সাদা স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে।

২. সাদা স্ট্রবেরির বাজারমূল্য কেমন হতে পারে?

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকার ও গুণমানের ভিত্তিতে একটি সাদা স্ট্রবেরির দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, অর্থাৎ প্রতি কেজি ফলের দাম হাজার টাকা বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. শিলিগুড়ির আবহাওয়ায় এই চাষের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

সাদা স্ট্রবেরির জন্য ২৬-২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা অনুকূল, কিন্তু শিলিগুড়ির সমতলে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়, যা এই চাষের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
অমিত বনিক

সাংবাদিক-অমিত বনিক

জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে যুক্ত। ২০২০ সাল থেকে তিনি সংবাদ একলব্যের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ