Advertisement

জনগণনার জেরে পিছোতে পারে মাধ্যমিক! মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রস্তাব শিক্ষা দপ্তরে, পরীক্ষা হতে পারে মার্চে

Advertisement
WBBSE Madhyamik Exam postponed due to Census March schedule
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: আসন্ন জনগণনার (Census) কারণে রাজ্যে পিছিয়ে যেতে পারে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination)। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও কারিগরি বাধ্যবাধকতার জেরে সেই সূচিতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে (West Bengal Madhyamik routine change)। সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারির বদলে পরীক্ষা মার্চ মাসে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ইতিমধ্যে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চেয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (Education News Bengali)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্ষদের একটি 'প্রস্তাবিত খসড়া' বা ড্রাফট রুটিন ভাইরাল হয়েছে, যেখানে আগামী ২ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে পর্ষদ সূত্রে খবর, এটি প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার জন্য তৈরি করা একটি প্রস্তাব মাত্র। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত রুটিন প্রকাশ করা হবে।

কেন পিছোতে পারে পরীক্ষা?

রাজ্য প্রশাসন ও পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন জনগণনার কাজে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক স্কুল শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীকে যুক্ত করা হবে। সাধারণত জনগণনার মতো বৃহৎ জাতীয় স্তরের কাজের জন্য শিক্ষকদের ফিল্ড ডিউটি (Census 2026 impact on schools) করতে হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে এই কাজ পুরোদমে চললে, মাধ্যমিকের মতো বড় মাপের পরীক্ষা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও নজরদারদের চরম ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম আপস না করতে হয়, মূলত সেই কথা মাথায় রেখেই মাধ্যমিকের দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে (WBBSE exam postponed)।

পর্ষদের প্রস্তাব ও শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কাছে মাধ্যমিক পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে মার্চ মাসে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে পরীক্ষা শুরু হতে পারে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা দপ্তর বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে। নবান্নের সবুজ সংকেত এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই সংশোধিত ও নতুন রুটিন বা পরীক্ষার সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ

পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার এই সম্ভাবনার খবরে পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, মার্চ মাসে পরীক্ষা হলে গরমের তীব্রতা বাড়বে, যা পরীক্ষাকেন্দ্রে অসুবিধার কারণ হতে পারে। আবার অন্যদিকে, পরীক্ষা পিছোলে রিভিশন বা প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত কিছুটা সময়ও মিলবে। তবে সকলেই এখন পর্ষদের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে?

আসন্ন জনগণনার কাজে রাজ্যের প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে যুক্ত করা হবে। তাই ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষক ঘাটতির আশঙ্কায় পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২. পরীক্ষা পিছিয়ে কোন মাসে হওয়ার কথা পর্ষদ প্রস্তাব করেছে?

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পূর্ব নির্ধারিত ১৫ ফেব্রুয়ারির বদলে পরীক্ষাটি পিছিয়ে মার্চ মাসে নেওয়ার প্রস্তাব স্কুল শিক্ষা দপ্তরে পাঠিয়েছে।

৩. নতুন পরীক্ষার রুটিন কবে প্রকাশ করা হবে?

স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং নবান্নের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই পর্ষদ মাধ্যমিকের নতুন রুটিন প্রকাশ করবে।

Advertisement
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ