Advertisement

AI Bubble burst । মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এবং AI এর ধীরগতির আশঙ্কা! বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস, গায়েব ট্রিলিয়ন ডলার

Advertisement
Global stock market crash due to AI bubble burst after US elections Bengali
ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্ক: ২০২৬ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections) ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিপুল জয়ের পরই বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে আছড়ে পড়ল সুনামির ঢেউ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির সম্প্রসারণে এবার রাশ টানা হতে পারে, মূলত এই আশঙ্কার জেরেই আমেরিকা এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন শুরু হয়েছে।

এই আশঙ্কার জেরে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর (Tech Stocks) কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের বাজারদর কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে (US Midterm Elections 2026 market crash)।

এআই পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারের লাগামহীন বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েই এবার ডেমোক্র্যাটরা সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে।

নতুন সরকারের এই এআই-বিরোধী নীতির সম্ভাবনায় প্রমাদ গুণছেন বিশ্বের প্রথম সারির বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারবাজারে রক্তক্ষরণ ও এশিয়ার বাজারে পতন

ডাও জোন্স (Dow Jones)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক (Nasdaq) সূচক এক ধাক্কায় ৫.৫% এর বেশি নেমে গেছে।

যার ফলে এক নিমেষেই শেয়ার বাজার থেকে আনুমানিক ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে (Nasdaq crash AI data centers)।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাসডাক এখন 'কারেকশন টেরিটরি'-তে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক ৪.৪% এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩.৪% পতন দেখেছে।

মার্কিন বাজারের এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (Kospi) সূচক ৮.৫% এর বেশি পড়ে যায়।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানিক সেলিং রুখতে শেয়ার বাজারে সাময়িকভাবে 'সার্কিট ব্রেকার' (Circuit breaker) চালু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও, এশীয় বাজারের অন্যান্য সূচকগুলোর মধ্যে জাপানের নিক্কেই ২২৫ (Nikkei 225) ৬% এবং তাইওয়ানের তাইএক্স (Taiex) ৮.৩% নিম্নমুখী ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' ও চিপ নির্মাতারা

একক দিনে অ্যাপল, এনভিডিয়া (Nvidia) এবং টেসলার মতো শীর্ষ সাতটি প্রযুক্তি সংস্থা (Magnificent Seven) প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য হারিয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে এনভিডিয়া। সংস্থাটির শেয়ার ৯% এর বেশি পড়ায় বাজারদর প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে।

চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে এএমডি (AMD) এবং মাইক্রন উভয় সংস্থাই ১৭%-এর বেশি ভয়াবহ পতন দেখেছে।

একইভাবে, ইন্টেল ১০.৩% এবং তাইওয়ানের বিখ্যাত চিপ নির্মাতা টিএসএমসি (TSMC) প্রায় ৮.৫% ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

রিপাবলিকানদের সমর্থনে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা এলন মাস্কের টেসলা (Tesla) এবং স্পেসএক্স (SpaceX)-এর শেয়ার যথাক্রমে ১১% এবং ৮% কমেছে (Tech stocks crash)।

ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে জনরোষ ও রাজনৈতিক অবস্থান

প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ও জল খরচ করা অতিকায় এআই ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরেই জনরোষ জমছিল।

টেক্সাসের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা হিনোজোসা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত করার (Moratorium) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক্স (X) হ্যান্ডেলে সাফ জানিয়েছেন, "আমেরিকানরা চায় না বিগ টেক অলিগার্করা পরিবেশ ধ্বংস করুক এবং চাকরি কেড়ে নিক।"

তিনি আরও যোগ করেছেন যে, পরিবেশ ও চাকরি বাঁচাতে অবিলম্বে জাতীয় ডেটা সেন্টারে স্থগিতাদেশ প্রয়োজন।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া এবং 'এআই বাবল' ফেটে যাওয়ার শঙ্কা

শেয়ারবাজারের এই ভয়াবহ পতনের জন্য নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদেরই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (International News Bengali)।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, "রিপাবলিকানরা নয়, 'ড্যামোক্র্যাট'দের (Dumocrats) জন্যই শেয়ারবাজার ইতিহাসের অন্যতম খারাপ দিনের সাক্ষী হলো।"

এদিকে ওপেনএআই (OpenAI)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান এবং মেটা-র (Meta) আধিকারিক দিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক স্বীকার করেছেন যে, এআই ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ তাদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল।

এখন থেকে স্থানীয় স্তরে মানুষের কাছে গিয়ে এআই-এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে বলে মনে করছেন শীর্ষ টেক কর্তারা।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা থেকে আদৌ কোনো লাভ আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিনিয়োগকারীরা।

এই রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে সেই বহুচর্চিত 'এআই বাবল' (AI Bubble burst) ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাই এখন শেয়ারবাজারকে মারাত্মক অস্থির করে তুলেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. মার্কিন নির্বাচনের পর বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নামল কেন?

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডেটা সেন্টারের লাগামহীন বৃদ্ধিতে রাশ টানা হতে পারে— মূলত এই আশঙ্কা থেকেই টেক শেয়ারগুলোতে ধস নেমেছে।

২. এআই ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে আমেরিকায় এত জনরোষ কেন?

অতিকায় এআই ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ ও জল খরচ করে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

৩. এই শেয়ার বাজার পতনে কোন সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

এই পতনে অ্যাপল, এনভিডিয়া, টেসলা, এএমডি, এবং মাইক্রনের মতো শীর্ষ সারির প্রযুক্তি সংস্থাগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Sponsored Recommendations
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ