নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমে বিমান ভাড়ার (festival season airfare hike PIL) লাগামহীন বৃদ্ধি রুখতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন এক আইনজীবী। কিন্তু সেই আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। উল্টে আবেদনকারীকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বিক্রম নাথ (Justice Vikram Nath remarks on flights) বলেন, "তাহলে আর বিমানে ভ্রমণ করবেন না! পরবর্তী মামলা পেশ করুন" (National News Bengali)।
আদালতে সওয়াল ও বিচারপতির কড়া মন্তব্য
উৎসবের মরশুমে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বিমান ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন ওই আইনজীবী। এদিন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিং-এর বেঞ্চে মামলাটির জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়। শুনানিতে আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, বর্তমান সময়ে বিমান যাত্রা আর কোনও 'বিলাসিতা' নয়, বরং এটি 'জরুরি পরিষেবা'র আওতাভুক্ত। টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অর্থাৎ 'আইনের চোখে সমতার অধিকার' লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়নি। বিচারপতি বিক্রম নাথ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভাড়া বেশি মনে হলে বিমানে ওঠার প্রয়োজন নেই (Supreme Court on flight ticket prices)।
'মহাপ্রলয়' নাকি বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি? কেন ৭২ ঘণ্টার খাবার ও রসদ মজুত রাখতে বলছে বিভিন্ন দেশের সরকার! জানুন আসল সত্য
সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন সমগোত্রীয় মামলা
শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই সমাজকর্মী এস লক্ষ্মীনারায়ণের দায়ের করা প্রায় একই বিষয়ের ওপর একটি পৃথক জনস্বার্থ মামলার শুনানি করছে। ওই আবেদনে ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলির দ্বারা ধার্য করা ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচের অপ্রত্যাশিত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়নেরও আবেদন রয়েছে সেখানে।
নতুন উড়ান নিয়মকানুন ও সরকারি পদক্ষেপ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ আদালতের এই নতুন মামলা খারিজের নেপথ্যে রয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। ভারত সরকার ইতিমধ্যে ‘ভারতীয় বায়ুযান নিয়ম, ২০২৬’ প্রস্তুত করেছে, যা আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে। বিমান চলাচল সংক্রান্ত এই নতুন নির্দেশিকায় বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে উড়ান সংস্থাগুলির ওপর একাধিক শর্ত চাপানো হবে। মূলত এই কারণেই শীর্ষ আদালত নতুন করে জরুরি ভিত্তিতে বিমান ভাড়া সংক্রান্ত কোনো মামলার শুনানিতে আগ্রহ দেখায়নি বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. বিমান ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীকে কী বলেছে?
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ আবেদনকারীকে ভর্ৎসনা করে বলেন, "ভাড়া বেশি মনে হলে আর বিমানে ভ্রমণ করবেন না! পরবর্তী মামলা পেশ করুন।"
২. আবেদনকারীর মূল অভিযোগ কী ছিল?
আবেদনকারী দাবি করেছিলেন যে, উৎসবের মরশুমে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের 'সমতার অধিকার' ক্ষুণ্ণ করছে, কারণ বর্তমানে বিমান যাত্রা একটি জরুরি পরিষেবা।
৩. সরকার বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
ভারত সরকার ইতিমধ্যে ‘ভারতীয় বায়ুযান নিয়ম, ২০২৬’ প্রস্তুত করেছে যা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে উড়ান সংস্থাগুলির ওপর একাধিক শর্ত চাপানো হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন