নয়াদিল্লি/কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলার শুনানিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তপ্ত পর্ব অতিবাহিত হলো। মামলার কমপ্লায়েন্স শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি (Supreme Court DA case update)। একইসঙ্গে, এদিনের শুনানিতে সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (Grant-in-Aid) শিক্ষক ও কর্মীদের বঞ্চনার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন রেসপন্ডেন্ট পক্ষের আইনজীবীরা (Dearness Allowance News Bengali)।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বঞ্চনা ও আইনজীবীদের সওয়াল
এদিনের শুনানিতে আইনজীবী ফিরদৌস সামিম, করুণা নন্দী, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) এবং অন্য আইনজীবীরা একজোটে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের বঞ্চনার চিত্রটি আদালতের সামনে তুলে ধরেন (grant in aid employees Supreme Court)। আইনজীবী ফিরদৌস সামিম সওয়ালের শুরুতেই এই সুর বেঁধে দেন, যাকে পরবর্তীতে আরও এগিয়ে নিয়ে যান করুণা নন্দীসহ অন্যান্যরা।
আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, রাজ্য সরকারের দাখিল করা হিসাব অনুযায়ী মোট ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা মেটানো হয়েছে। অথচ গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এখনও পর্যন্ত একটি পয়সাও পাননি। শুধু তাই নয়, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে করুণা নন্দী জানান, রাজ্যের সঙ্গে এগারোবার বৈঠক হলেও রেসপন্ডেন্টদের সঙ্গে কমিটি এখনও একবারও বৈঠক করেনি। এমনকি কলকাতার পরিবর্তে দিল্লিতে বৈঠক করার অনুরোধ জানানো হলে বিচারপতি তা খারিজ করে কলকাতায় গিয়েই বৈঠক করার নির্দেশ দেন।
মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলার সমস্ত টাটকা আপডেট এবং আদালতের নির্দেশিকা পড়ুন এখানে
আদালতের ভর্ৎসনা ও পরবর্তী দিন ধার্য
রাজ্যের তরফ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে আগামী ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় এই সংক্রান্ত বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে (West Bengal dearness allowance case)। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত রায় দেওয়া সত্ত্বেও নভেম্বরে এসেও তা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া অত্যন্ত অনভিপ্রেত। সমস্ত কর্মীকে বকেয়া মেটাতেই হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকের পর আগামী ২৯ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
অন্যদিকে, এই শুনানি ঘিরে আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে এই মামলার আইনি লড়াকু কৌশল ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিজস্ব মত প্রকাশ করেছেন। সবমিলিয়ে, বকেয়া ডিএ এবং গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে উভয় পক্ষকেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্যকে কী জানিয়েছে?
রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে সমস্ত কর্মচারীর বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মেটাতেই হবে।
২. গ্রান্ট-इन-এইড কর্মচারীদের বঞ্চনা নিয়ে আইনজীবীরা কী সওয়াল করেছেন?
আইনজীবীরা জানান যে ৪২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা মেটানো হলেও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনভোগীরা এখনও একটি পয়সাও পাননি।
৩. ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি কবে ধার্য হয়েছে?
আগামী ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকের পর আগামী ২৯ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন