হায়দরাবাদ/নয়াদিল্লি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ইতিমধ্যেই তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, 'মুরাসু' (Murasu) নামের এই ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে এটি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুর উপকূলের ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে (Cyclone Murasu tracker)। ল্যান্ডফলের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে (Weather News Bengali)।
ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান অবস্থান ও 'মুরাসু' নামের তাৎপর্য
১ নভেম্বর আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়টি চেন্নাই থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং নেল্লোর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।
এই ঘূর্ণিঝড়ের 'মুরাসু' নামটি ভারতের তরফ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ হলো প্রাচীন ঢোল। প্রাচীনকালে গ্রামে যেকোনো খবর ছড়াতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তা দিতে এই বাদ্যযন্ত্রটি বাজানো হতো। সেই বিপদ সংকেতের ঐতিহ্য মেনেই এই নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং এসক্যাপ (ESCAP)-এর তালিকাভুক্ত ১৩টি দেশের প্যানেলের নিয়ম মেনেই ভারত আবহাওয়া বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণ করেছে।
আবহাওয়ার সমস্ত টাটকা আপডেট এবং ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদন পড়ুন এখানে
একাধিক রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড়টি মাঝারি থেকে তীব্র আকার ধারণ করায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'-র প্রভাবে যে রাজ্যগুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাতের সতর্কতা (Andhra Pradesh weather alert) জারি করা হয়েছে:
অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা: ২ এবং ৩ নভেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং রায়লসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, ২ ও ৩ নভেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামে এবং ৩ নভেম্বর তেলেঙ্গানায় বিক্ষিপ্তভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত (Extremely heavy rainfall) হতে পারে।
তামিলনাড়ু: ১ ও ২ নভেম্বর তামিলনাড়ুর বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর তামিলনাড়ুর কিছু এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ওড়িশা ও ছত্তিশগড়: ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের পর এর প্রভাব পড়বে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও। ৩ এবং ৪ নভেম্বর ছত্তিশগড় এবং দক্ষিণ ওড়িশায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবল বেগে ঝোড়ো বাতাসের কারণে গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে কড়াভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু' কবে এবং কোথায় আছড়ে পড়বে?
আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুর উপকূলের ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়বে।
২. ল্যান্ডফলের সময় 'মুরাসু'র বাতাসের গতিবেগ কত থাকবে?
ল্যান্ডফলের সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
৩. 'মুরাসু' নামের অর্থ কী এবং এটি কোন দেশের দেওয়া?
এই নামটি ভারতের দেওয়া। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ হলো 'প্রাচীন ঢোল', যা অতীতকালে গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তা দিতে বাজানো হতো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন