নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুম শেষ হতে না হতেই মধ্যবিত্তের হেঁশেলে কড়া মূল্যবৃদ্ধির ভ্রূকুটি। দিওয়ালির পর থেকেই সাবান, বিস্কুট, নুডলস, ডিটারজেন্ট এবং প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্যের মতো একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম একধাক্কায় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL), ব্রিটানিয়া (Britannia), ডাবর (Dabur) এবং টাটা কনজ্যুমার (Tata Consumer)-এর মতো দেশের প্রথম সারির এফএমসিজি (FMCG) কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে (FMCG price hike India)। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই বেশ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের বর্ধিত মূল্য কার্যকর হতে পারে।
প্যাকেটের ওজন কমানোর কৌশল এখন সীমিত
এতদিন পর্যন্ত কাঁচামালের দাম বাড়লে কোম্পানিগুলো সরাসরি পণ্যের দাম না বাড়িয়ে প্যাকেটের ওজন কমিয়ে (যাকে অর্থনীতির ভাষায় Shrinkflation বলা হয়) খরচের চাপ সামাল দিত। কিন্তু বর্তমানে এই কৌশলটি ক্রমশ তার সীমানায় পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১০ টাকা দামের একটি পার্লে-জি (Parle-G) বিস্কুটের প্যাকেটে পরিমাণ আরও কমানোর তেমন কোনও সুযোগ নেই। কোম্পানিগুলোর আশঙ্কা, পণ্যের পরিমাণ অতিরিক্ত কমালে গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট হতে পারেন, অন্যদিকে সরাসরি দাম বাড়ালে তাঁরা অপেক্ষাকৃত সস্তা ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে তাদের।
উৎসবের মরশুমে মধ্যবিত্তের পকেটে কোপ! একধাক্কায় ঘি ও মাখনের দাম বাড়াল আমুল (Amul), জানুন নতুন দাম
আগের মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতি
ইতিমধ্যেই চলতি বছরের জুন ত্রৈমাসিকে ব্রিটানিয়া, এইচইউএল, ডাবর এবং গোদরেজ কনজ্যুমার তাদের বেশ কিছু পণ্যের দাম প্রায় ২% থেকে ৫% পর্যন্ত বাড়িয়েছে (HUL Britannia Tata consumer products price)। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের জন্যও নতুন করে দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
- টাটা প্রোডাক্টস: টাটা কনজ্যুমার প্রোডাক্টস গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চায়ের দাম ৮% থেকে ১০% বাড়িয়েছে। এমনকি মে মাসে ৩০ টাকা দামের একটি টাটা লবণের প্যাকেটের দাম বাড়িয়ে ৩২ টাকা এবং তারপর অক্টোবরে তা আরও বাড়িয়ে ৩৪ টাকা করা হয়েছে।
- প্যাকেজিং ও অন্যান্য খরচ: ক্রমবর্ধমান প্যাকেজিং খরচ পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলেছে। বাজারে প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের খরচ একলাফে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের সামগ্রিক উৎপাদন খরচের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
- কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি: এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেল (বিশেষত পাম তেল), কফি এবং কোকো-র মতো অপরিহার্য কাঁচামালের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাবান থেকে চকলেট— প্রায় সবকিছুরই উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে (Soap biscuit price increase 2026)।
বিশেষজ্ঞদের মত এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মূল্যবৃদ্ধির জেরে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তাদের মাসিক বাজেটের একটি বড় অংশই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পেছনে খরচ হয়। বিস্কুট, নুডলস, সাবান, ডিটারজেন্ট এবং ভোজ্য তেলের মতো সাধারণ পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তনও তাদের সংসার খরচে বড় কোপ বসাতে পারে।
এ প্রসঙ্গে 'ডেটাম ইন্টেলিজেন্স'-এর প্রতিষ্ঠাতা সতীশ মীনা জানিয়েছেন, "কোম্পানিগুলো সাধারণত কিছুদিন পর্যন্ত নিজেদের কাঁধে বর্ধিত খরচের বোঝা টেনে নেয়। কিন্তু পরে বাধ্য হয়েই দাম বাড়িয়ে সেই বোঝা গ্রাহকদের ওপরই চাপিয়ে দিতে হয়।" (National News Bengali)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. দিওয়ালির পর কোন কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে?
দিওয়ালির পর মূলত সাবান, বিস্কুট, নুডলস, ডিটারজেন্ট এবং প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. কোম্পানিগুলো কেন পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে?
প্যাকেজিং খরচ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে পাম তেল, কফি ও কোকোর মতো অপরিহার্য কাঁচামালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা সামলাতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়াচ্ছে।
৩. প্যাকেটের ওজন কমানোর কৌশল (Shrinkflation) কেন আর কাজ করছে না?
অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেটের আকার বা ওজন কমানোর সীমা ইতিমধ্যেই তলানিতে পৌঁছেছে (যেমন- ১০ টাকার বিস্কুটের প্যাকেট)। আরও পরিমাণ কমালে গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট হয়ে অন্য ব্র্যান্ডে চলে যেতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন