Advertisement

দিল্লি থেকে গুয়াহাটি বুলেট ট্রেন প্রকল্প । স্পর্শকাতর 'চিকেনস নেক' করিডর পার হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ, সম্ভাব্য খরচ ও রুট নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

Advertisement
Delhi to Guwahati Bullet Train via Siliguri Corridor
ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লি/গুয়াহাটি: ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি গুয়াহাটি পর্যন্ত হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই মেগা প্রকল্পে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করতে নর্দার্ন করিডোর অনুমোদন করা হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সংকীর্ণ 'চিকেনস নেক' (Siliguri Corridor) বা শিলিগুড়ি করিডরের ওপর দিয়ে এই ট্রেন কীভাবে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এর সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা (Northeast India high speed rail)।

প্রস্তাবিত রুট ও করিডরের বিবরণ

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি এই নর্দার্ন করিডোর প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবিত রুটটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আগ্রা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, পাটনা এবং শিলিগুড়ির মধ্যে দিয়ে সরাসরি গুয়াহাটিতে গিয়ে পৌঁছবে (Delhi Guwahati bullet train route map)। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন সম্প্রসারণ করা অসম্ভব বলে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে (National News Bengali)।

'চিকেনস নেক' করিডর পারাপারের চ্যালেঞ্জ

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হলো শিলিগুড়ির 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডর পার হওয়া। এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি সাধারণত ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত হলেও এর কিছু অংশ মাত্র ১৬ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। এই অত্যন্ত সংকুচিত পথটিই উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে (Siliguri Corridor bullet train challenge)।

এই এলাকায় ইতোমধ্যেই জাতীয় মহাসড়ক এবং বিদ্যমান রেললাইন থাকায় বুলেট ট্রেনের জন্য আলাদাভাবে জমি পাওয়া এবং ট্র্যাক তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। বুলেট ট্রেন যেহেতু সাধারণ রেললাইনে চলতে পারে না, তাই এর জন্য সম্পূর্ণ পৃথক রেলপথ বা ডেডিকেটেড ট্র্যাক প্রয়োজন। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে উড়ালপথ (Elevated tracks) অথবা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের (Underground tunnel) মাধ্যমে ট্রেন চালানোর বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশদ সমীক্ষা ও প্রযুক্তিগত গবেষণা চালানো হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য খরচ

প্রকল্পের খরচ সম্পর্কে আসামের মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধরনের একটি উচ্চাভিলাষী এবং জটিল প্রকৌশল প্রকল্পের ব্যয় সাধারণ রেল প্রকল্পের তুলনায় কমপক্ষে দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। বিশেষ করে 'চিকেনস নেক' অংশে সুড়ঙ্গ বা এলিভেটেড ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে। তবে বিশদ রুট সমীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা সম্পন্ন হওয়ার পরেই খরচের সঠিক অঙ্কটি স্পষ্ট হবে।

প্রাথমিক অনুমোদন মেলার পর এখন পরবর্তী ধাপে সমীক্ষা, রুট ম্যাপিং এবং প্রযুক্তিগত নকশা তৈরির কাজ শুরু হবে, যা দেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হতে চলেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. দিল্লি থেকে গুয়াহাটি বুলেট ট্রেনের রুট কী হবে?

প্রস্তাবিত রুটটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আগ্রা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, পাটনা এবং শিলিগুড়ির মধ্যে দিয়ে সরাসরি গুয়াহাটিতে পৌঁছবে।

২. এই প্রকল্পে প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী?

প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শিলিগুড়ির অত্যন্ত সংকীর্ণ 'চিকেনস নেক' করিডর পার হওয়া, যেখানে বুলেট ট্রেনের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড ট্র্যাক তৈরি করতে হবে।

৩. 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডরের বিস্তৃতি কত?

এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি সাধারণত ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত হলেও, এর কিছু কিছু অংশ মাত্র ১৬ কিলোমিটারের মতো সংকীর্ণ হয়ে গেছে।

Advertisement
Sponsored Recommendations
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ