কোচবিহার: এ পি সি রায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের কোচবিহার জেলা শাখার সহযোগিতায় কোচবিহারের রবীন্দ্র ভবনে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রতিভা অন্বেষণ অভীক্ষা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান (A PC Roy Pratibha Anweshan Abhiksha 2026)।
৬ নভেম্বর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বিশাল অংশগ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোচবিহার জেলার ৩০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৮,৫৪০ জন শিক্ষার্থী এই মেধা অন্বেষণ অভীক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
পরীক্ষার মাত্র ২২ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফল প্রকাশ করে পুরস্কার বিতরণের এই আয়োজন শিক্ষা মহলে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
এ দিন অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ঐতিহ্যমণ্ডিতভাবে—দীপ প্রজ্জ্বলন, মা সরস্বতী ও ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সম্মিলিত সরস্বতী বন্দনার মধ্য দিয়ে।
কালীপূজা আর বুড়িমা, এক নস্টালজিক ইতিহাস! কিন্তু জানেন কি কে এই 'বুড়িমা' বা অন্নপূর্ণা দাস?
কৃতীদের সাফল্যের খতিয়ান ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কোচবিহার জেলা থেকে রাজ্য মেধাতালিকায় মোট ১০ জন কৃতি শিক্ষার্থী গৌরবোজ্জ্বল স্থান অর্জন করেছে।
পাশাপাশি, জেলাস্তরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী।
দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙা, কোচবিহার সদর ও মেখলিগঞ্জ—এই পাঁচটি মহকুমার ৩০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে বাছাই করা মোট ২৭৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ দিন সংবর্ধিত ও পুরস্কৃত করা হয় (Cooch Behar talent search exam award)।
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ও মূল্যবান বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার ডিপিএসসির চেয়ারম্যান সাধন কুমার পাল, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উত্তরবঙ্গ প্রান্তের সেবা প্রমুখ সুব্রত মণ্ডল, কোচবিহার বিভাগ কার্যবাহ অমর রায় এবং এ পি সি রায় প্রতিভা অন্বেষণ অভীক্ষার রাজ্য কনভেনর দেবাদিত্য মণ্ডল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের রাজ্য সম্পাদক বিদ্যুৎ মজুমদার, সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন কুমার ভৌমিক এবং জেলা সম্পাদক মানস কর-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্মরত বরিষ্ঠ কার্যকর্তা ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে কোচবিহার ডিপিএসসির চেয়ারম্যান সাধন কুমার পাল এক চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করেন।
তিনি বলেন, “একটি বাগানে যেমন বিভিন্ন ধরনের চারাগাছ রোপণ করা হয় এবং প্রত্যেকটি চারাগাছের জন্য আলাদা আলাদা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়, তবেই সেই গাছ সঠিকভাবে বেড়ে উঠে ফুল ও ফল দেয়। ঠিক তেমনই প্রত্যেক অভিভাবক-অভিভাবিকার উচিত তাঁদের সন্তানদের নিজস্ব প্রতিভা ও দক্ষতা অনুযায়ী পরিচর্যা করা। সন্তান যে বিষয়ে পারদর্শী, সেই প্রতিভাকে খুঁজে বের করে যথাযথভাবে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে। তবেই তারা রাজ্য তথা ভারতবর্ষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।”
প্রতিভা অন্বেষণের মূল লক্ষ্য
অন্যদিকে, এ পি সি রায় প্রতিভা অন্বেষণ অভীক্ষার কোচবিহার জেলা কনভেনর মৃত্যুঞ্জয় বর্মন অভীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের মানসিক পারদর্শিতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ কতটা হয়েছে, তা যাচাই করাই এই অভীক্ষার মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও মেধার বিকাশ ঘটাতেই প্রতিবছর এই আয়োজন করা হয়।”
পুরো অনুষ্ঠানটিজুড়ে কোচবিহার জেলার শিক্ষা মহলে এক ইতিবাচক ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে, যা আগামী দিনে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে (Local News Bengali)।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কোচবিহারে কোন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিভা অন্বেষণ অভীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে?
এ পি সি রায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের কোচবিহার জেলা শাখার সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২. এ বছর কোচবিহারে কতজন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল?
কোচবিহার জেলার ৩০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট প্রায় ৮,৫৪০ জন শিক্ষার্থী এই মেধা অন্বেষণ অভীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।
৩. এই অনুষ্ঠানে মোট কতজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে?
দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙা, কোচবিহার সদর ও মেখলিগঞ্জ—এই পাঁচ মহকুমার পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মোট ২৭৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন