কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে যুক্ত হলো আরও এক নতুন পালক। আকাশপথে রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাগুলিকে জুড়ে দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘরে 'উড়ান' (UDAN Scheme West Bengal) প্রকল্পের আওতায় এবং রাজ্যে নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক 'সমঝোতা চুক্তি' (MoU) স্বাক্ষরিত হলো (West Bengal Aviation News Bengali)।
নবান্নে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডু এবং এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI)-র শীর্ষ আধিকারিকরা। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মাননীয় মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ।
কোথায় কোথায় তৈরি হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর?
কেন্দ্রীয় সরকারের 'উড়ে দেশ কা আম নাগরিক' বা উড়ান প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিমান পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এই চুক্তির আওতায় পশ্চিমবঙ্গে মূলত চারটি জায়গায় নতুন বিমানবন্দর বা এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে (West Bengal new airports)। এই জায়গাগুলি হলো:
- পুরুলিয়ার ছররা (Purulia Charra Airport)
- পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা
- দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট (Balurghat Airport)
- আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা (Hasimara Airport)
অর্থাৎ, জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ—রাজ্যের এই চার প্রান্ত এবার সরাসরি আকাশপথের মানচিত্রে কড়া নাড়তে চলেছে।
কর্মসংস্থান ও পর্যটনে যুগান্তকারী পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি এই বিমানবন্দরগুলিকে কেন্দ্র করে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে হাসিমারা বা পুরুলিয়ার মতো জায়গায় বিমান পরিষেবা চালু হলে পর্যটন শিল্পে জোয়ার আসবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং রাজ্যে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যবাসীর জন্য এই চুক্তি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল (State News Bengali)।