কলকাতা: প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট (TET) বাধ্যবাধকতা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের শিক্ষামহল (Primary teacher TET issue West Bengal)। দীর্ঘদিনের এই দোলাচল ও চাকরি হারানোর আশঙ্কার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামী ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (Bikash Bhavan protest update)।
টেট (TET) বাধ্যবাধকতায় চাকরি হারানোর আশঙ্কা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে সারা দেশের সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে টেট (TET mandatory for teachers WB) উত্তীর্ণ হতে হবে। একমাত্র যাঁদের অবসরের পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁরাই এই কড়া নিয়ম থেকে ছাড় পাবেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ লক্ষ এবং শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক টেট অনুত্তীর্ণ অবস্থায় কর্মরত রয়েছেন।
৫০ শতাংশ নম্বরের গেরো এবং শিক্ষকদের সমস্যা
টেট পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত। বর্তমান আইন অনুযায়ী, টেট পরীক্ষায় বসতে হলে উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতক স্তরে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা প্রয়োজন।
- ২০১১ সালের আগে বা ২০০১ সালের আগে মাধ্যমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া রাজ্যের বহু শিক্ষকেরই উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতকে সেই নির্দিষ্ট ৫০ শতাংশ নম্বর নেই।
- শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁরা টেট পরীক্ষায় বসতে চাইলেও যোগ্যতার অভাবে তা থেকে বাদ পড়বেন।
- নর্মাল সেকশনের শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিকাশ ভবনে বিক্ষোভের ডাক
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করে অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করে অর্ডিন্যান্সের (অধ্যাদেশ) মাধ্যমে অবিলম্বে এই জটিলতা নিরসন করতে হবে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানান, অন্যান্য রাজ্যের মতো রাজ্য সরকারকেও কেন্দ্রের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষকদের স্বার্থে পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। চাকরি বাঁচানোর এই কঠিন লড়াইয়ে সমস্ত শিক্ষককে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সমিতি (Government employee news Bengali)।
সম্প্রতি কেন্দ্রের শিক্ষা দফতর একটি আরটিআই (RTI)-এর উত্তরে জানিয়েছে যে, উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। আর তাই বিপদের কালো মেঘ দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। কারণ ৫০ শতাংশের কম নম্বর পাওয়া শিক্ষকরা টেট দিতে চাইলেও দিতে পারবেন না।
অবধারিতভাবে তাঁদের চাকরি যাবে। তাই অধ্যাদেশ জারি করে এই নীতি বাতিল করা ছাড়া, কোনও উপায় নেই বলেই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার (State News Bengali)।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন