গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে (Flydubai Flight 1073 incident) ভয়ংকর জঙ্গি হামলা রুখে দিয়েছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা সত্ত্বেও নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি যাত্রীদের সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে আনেন। তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতাকে সম্মান জানাতে এবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস'-এ একটি বিশেষ বিল পেশ করা হলো (US Congress resolution)।
মার্কিন কংগ্রেসে সম্মাননা প্রস্তাব
জশ গটহেইমার, ডন বেকন এবং মাইকেল ম্যাককলের মতো মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা ৫ অক্টোবর এই প্রস্তাবটি (এইচ. রেস. ১৬১২) পেশ করেন। এই বিলে ভারতীয় পাইলটের (Indian pilot Smit Machchhar) পাশাপাশি ওই বিমানের কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের সাহসিকতারও ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রস্তাবে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের ওপর 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' (Terrorist attack mid-air) বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর উড়ানে?
ওই দিন ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর উড়ানটি ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল, যার মধ্যে ৪ জন মার্কিন নাগরিক ও ২৭টি শিশু ছিল। মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই ওমানের বাসিন্দা কো-পাইলট হামাম আল-হামামি বিমানের জরুরি কুঠার (crash axe) দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতের ওপর হামলা চালায় এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। এর জেরে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিত অদম্য লড়াই চালিয়ে যান এবং ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের সহায়তায় হামলাকারীকে আটকে বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
সুস্থ হয়ে উঠছেন স্মিত, চলছে তদন্ত
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে, চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আবুধাবির বিএপিএস (BAPS) হিন্দু মন্দিরেও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, এই হামলার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী কো-পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ইজরায়েলের দিকে নিয়ে গিয়ে বড়সড় নাশকতা ঘটানো। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইজরায়েল ও সৌদি আরব উভয় দেশই নিজেদের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রেখেছিল। তবে ভারতীয় পাইলটের অসীম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে (International News Bengali)।