নয়াদিল্লি/প্যারিস: শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা নিয়ে ইউনেস্কোর (UNESCO) সাম্প্রতিক গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (GEM Report 2026) প্রতিবেদন ভারতের জন্য এক মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে। শুক্রবার প্যারিসে প্রকাশিত 'শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা' শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভারতের শহরাঞ্চলে ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রায় নিখুঁত সমতা অর্জিত হলেও, গ্রামীণ ভারতের পরিস্থিতি (Girls education in India) যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের বৈষম্য এবং এর কারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতে প্রতি ১০০ জন ছেলের তুলনায় মাত্র ৫৯ জন মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করতে পারে। ইউনেস্কোর মতে, গ্রামীণ এলাকায় এই বিশাল বৈষম্যের প্রধান কারণ হলো চরম দারিদ্র্য এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব (Gender equality in education)।
তবে সমগ্র ভারতের (গ্রামীণ ও শহুরে) গড় বিচার করলে, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমন্বিত লিঙ্গ সমতা সূচক হলো ০.৮৯। অর্থাৎ, জাতীয় স্তরে প্রতি ১০০ জন ছেলের তুলনায় ৮৯ জন মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করে (National News Bengali)।
অবহেলিত শৈশব: ৫ বছরেই প্রথম শ্রেণিতে ৫১% শিশু!
এই প্রতিবেদনে ভারতের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি (৫১%) অঙ্গনওয়াড়ি বা নার্সারিতে না গিয়ে সরাসরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে। যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সরাসরি ভর্তির বৈশ্বিক গড় মাত্র ২৭ শতাংশ, সেখানে ভারতে এই হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইউনেস্কো সতর্ক করে জানিয়েছে যে, শিশুদের নির্ধারিত বয়সের আগেই বিদ্যালয়ে প্রবেশ তাদের মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। উল্লেখ্য, ভারতের জাতীয় শিক্ষা নীতি (National Education Policy NEP 2020) অনুসারে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৫ বছরে ৬৫% প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবধান পূরণ
উদ্বেগের পাশাপাশি ভারতের জন্য কিছু ইতিবাচক খবরও রয়েছে। ইউনেস্কো স্কুল শিক্ষার ব্যবধান পূরণের ক্ষেত্রে ভারতকে 'দ্রুত অগ্রগতি' করা দেশগুলোর তালিকায় স্থান দিয়েছে। ২০০০ সালে বিশ্বের যে ৪৭টি দেশে ছেলেদের চেয়ে বেশি মেয়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়ত, ভারত ছিল তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু গত ২৫ বছরে ভারত তার প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবধান ৬৫ শতাংশেরও বেশি (দুই-তৃতীয়াংশ) কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা বাজেটে সুবিধাবঞ্চিত অংশের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের আরও অনেক কাজ করা বাকি (International News Bengali)।
প্রশংসিত কর্ণাটক মডেল এবং অন্যান্য রাজ্যের সাফল্য
ইউনেস্কো গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কর্ণাটক সরকারের বিশেষ বৃত্তি মডেলের (Scholarship Model) ভূয়সী প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি ভারতের কিছু রাজ্যের প্রাক-প্রাথমিক কাঠামোরও প্রশংসা করা হয়েছে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কেরালা এবং নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলোতে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানে (বাল বাটিকা বা কেজি) ভর্তির হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, এই রাজ্যগুলির শিশুরা সরাসরি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি না হয়ে যথাযথ বয়সে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করছে।