মা আসছে ...

মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর ঝলমলে সাজ, নেপথ্যে নীরব এক শিল্পী! জানুন শিলিগুড়ির সেই ‘অন্য দুর্গা’র গল্প

Siliguri woman artist Doyel Das De making Durga idol ornaments
Graphics: SE

শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে (Siliguri Durga Puja 2026) ঢুকলেই চোখ আটকে যায় প্রতিমার সাজে। মায়ের মুখের আদল, মুকুট, হার, কানের দুল থেকে শুরু করে হাতের অলংকার—সব মিলিয়ে দেবীর রূপ যেন আরও পূর্ণতা পায়। কিন্তু সেই সাজের নেপথ্যে যাঁর নিপুণ হাত, তাঁর গল্প অনেক সময়ই থেকে যায় আলোচনার বাইরে। শিলিগুড়ির মধ্য চয়নপাড়ার দোয়েল দাস দে (Doyel Das De Siliguri artist) তেমনই এক শিল্পী, যিনি বছরের পর বছর ধরে নিজের হাতে তৈরি করছেন প্রতিমার অলংকার।

দুই দশকের শিল্পসত্তা ও অলংকার তৈরির পথচলা

২০০৩ সালে মৃৎশিল্পী সুশান্ত পালের হাত ধরে ঠাকুরের গয়না তৈরির কাজে পথচলা শুরু দোয়েলের। প্রথমে ক্লে দিয়ে অলংকার তৈরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সেই কাজই হয়ে ওঠে তাঁর নিজস্ব শিল্পসত্তা। বর্তমানে শিলিগুড়িতে এই কাজ করা মহিলাদের মধ্যে তিনি একমাত্র বলেই দাবি তাঁর (Women empowerment Bengal)। শুধু দুর্গা নয়, কালী, মনসা, গণেশ, বিশ্বকর্মা এমনকি শনিদেবের প্রতিমার জন্যও তাঁর হাতে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের অলংকার।

দোয়েল দাস দে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই ধরনের কাজ করতে ভালো লাগত। ২০০৩ সালে প্রথম ঠাকুরের অলংকার তৈরির সুযোগ পাই। প্রথমে ভয় লাগলেও কাজটা করে ফেলি। তারপর ধীরে ধীরে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা যোগাযোগ করতে শুরু করেন। এখন নিজের হাতে তৈরি গয়না যখন ঠাকুরের গায়ে দেখতে পাই, তখন একটা আলাদা শান্তি হয়। সেই ভালো লাগার জায়গা থেকেই এখনও কাজ করে যাচ্ছি।”

শিলিগুড়ির বিভিন্ন মণ্ডপে দোয়েলের হাতের ছোঁয়া

শিলিগুড়ির একাধিক পুজোমণ্ডপে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে দোয়েলের তৈরি গয়না। উপকার ক্লাব, হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব, সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন, সুকান্তনগর ক্লাব-সহ বিভিন্ন পুজোয় তাঁর কাজ দেখা গিয়েছে। চলতি বছর চম্পাসারি জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার ক্লাবের প্রতিমার অলংকার তৈরির (Durga idol ornaments making) দায়িত্বও রয়েছে তাঁর উপর। পুজোর প্রায় তিন মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা—একটির পর একটি অর্ডার, আর সেই সঙ্গে রাত জেগে চলে গয়না তৈরির কাজ।

উপকরণ সংগ্রহ ও অন্যান্য মহিলাদের স্বনির্ভর করার স্বপ্ন

তবে এই শিল্পের পথ একেবারেই সহজ নয়। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অলংকারের নকশা ও উপকরণ। শোলার পরিবর্তে এখন জরি, পুঁতি, রাংতা, শক্ত বোর্ড-সহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করেন দোয়েল। সেগুলি জুড়ে তৈরি করেন মুকুট, মালা, চুড়ি, আংটি, কানের দুল, টিকলি-সহ নানা অলংকার। শিলিগুড়িতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সবসময় পাওয়া যায় না, ফলে কলকাতা থেকে উপকরণ আনাতে হয়। আবার পুজোর একেবারে শেষ মুহূর্তে অর্ডার এলে অল্প সময়ে কাজ শেষ করার চাপও তৈরি হয়।

দোয়েলের স্বপ্ন অবশ্য শুধু নিজের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, সারা বছরই নানা পুজো হয় এবং এই শিল্পের মাধ্যমে বহু মহিলা স্বনির্ভর হতে পারেন। তাই আগামী দিনে আরও মহিলাকে এই কাজ শেখাতে চান তিনি। সংসারের পাশাপাশি স্বামী ও শাশুড়ির সহযোগিতায় এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দোয়েল। মণ্ডপে যখন আলোয় ঝলমল করে উঠবেন মা দুর্গা, তখন সেই সাজের পিছনে থাকা এই শিল্পীর নিঃশব্দ পরিশ্রমও যেন আলাদা করে নজরে আসে—কারণ দেবীর অলংকারের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে এক ‘অন্য দুর্গা’র গল্প (Durga Puja local news Bengali)।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in