রিয়াদ/ওয়াশিংটন: শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Riyadh Airport Missile Attack) এক ভয়াবহ মিসাইল হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনাল অবস্থিত একটি কমপ্লেক্সে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আঘাত হানে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের (Houthi attack on Saudi Arabia) ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে (International News Bengali)।
নিহতদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি
সৌদি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহত ১২ জনের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন:
- চারজন সৌদি নাগরিক।
- দুজন বাংলাদেশি নাগরিক।
- একজন আমেরিকান এবং একজন ফিলিস্তিনি।
- এছাড়া মিশর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East tension) আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump on Saudi Arabia) জানিয়েছেন, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা তিনি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন।
ট্রাম্প বলেন, "আমরা সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে এইমাত্র জানতে পেরেছি। বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা খুব দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নেব।"
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা, যেখানে একজন পাইলট-সহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন।
বাতিল ২৯১টি ফ্লাইট, আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতা
হামলার পরপরই সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রিয়াদ বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিমানগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স-সহ অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা তাদের নাগরিকদের ওই বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিও (EASA) বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে মিসাইল ও ড্রোনের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
ফুরোচ্ছে মিসাইল প্রতিরোধক, সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নিষেধাজ্ঞা
ইয়েমেনে হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। লোহিত সাগর বরাবর হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি জোট। তবে আঞ্চলিক আধিকারিকদের মতে, হুথিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও মিসাইল হামলার কারণে সৌদি আরবের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক (ইন্টারসেপ্টর) মজুত প্রায় শেষ। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদ ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান এবং মিশরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে। ইতিমধ্যে উত্তেজনা কমাতে ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি প্রশাসন কড়া নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, মিসাইল আঘাত হানার স্থান বা ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোনো ছবি বা তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ বা শেয়ার করলে নাগরিকদের কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।