মা আসছে ...

ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই, যুদ্ধাপরাধের বিচারে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

Indian origin Navi Pillay wins Nobel Peace Prize 2026
Graphics: SE

অসলো/নুরেমবার্গ: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে (Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026) ভূষিত হলেন প্রখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত নবনীতম "নাভি" পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের প্রসার, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নরওয়ের অসলো থেকে এই সম্মানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই বছরও নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন (Donald Trump Nobel Peace Prize) বলে জানা গেছে।

নুরেমবার্গে ঐতিহাসিক সম্মাননা

৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই যখন এই পুরস্কার প্রাপ্তির খবর পান, তখন তিনি জার্মানির নুরেমবার্গের একটি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন—যে স্থানটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের ঐতিহাসিক বিচারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার পরপরই সেখানে উপস্থিত জনতা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান (Standing Ovation) জানান (International News Bengali)।

আবেগাপ্লুত পিল্লাই বলেন, "মানবাধিকার রক্ষা করা এবং যুদ্ধ এড়ানো বিশ্ব নেতাদের একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।" তিনি আরও যোগ করেন, এই ঐতিহাসিক স্থানের মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া তাঁর কাছে অনেক বড় ব্যাপার এবং যেকোনো পুরস্কার তখনই বিশেষ হয়ে ওঠে যখন জনগণও বিশ্বাস করে যে তিনি এর যোগ্য।

আন্তর্জাতিক আইনে যুগান্তকারী ভূমিকা

নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICTR) বিচারক ও সভাপতি হিসেবে তিনি এক ঐতিহাসিক আইনি নীতি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিচারিক দূরদৃষ্টিতেই একটি যুগান্তকারী রায়ে ('আকায়েসু মামলা') আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতাকে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' ও 'গণহত্যা' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া, ঘৃণামূলক প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেও তিনি প্রথম সফল বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার হিসেবেও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করছেন (Indian origin Nobel winner)।

দারিদ্র্য থেকে সাফল্যের শিখরে উত্তরণ

১৯৪১ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর শেকড় ভারতে; ১৮৯০-এর দশকে তাঁর ঠাকুরদাদা-ঠাকুমা ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্ণবাদের বাধা পেরিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিযুক্ত প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শুধু তাই নয়, মর্যাদাপূর্ণ হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিকও তিনি।

নোবেল কমিটির বার্তা ও ১২৫তম বার্ষিকী

১৯০১ সালে শুরু হওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের এটি ১২৫তম বার্ষিকী। নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ব বর্তমানে দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ ও সংঘাতের সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে এবং ক্ষমতার রাজনীতি বারবার আইন ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। নোবেল কমিটি জানায়, নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্থায়ী শান্তির জন্য ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন অপরিহার্য। তিনি রাষ্ট্রনেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনেছেন এবং বিশ্বজুড়ে সংঘাতের শিকার মানুষদের জন্য ন্যায়বিচারের আশাকে শক্তিশালী করেছেন।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in