🔴 সরাসরি ব্রেকিং নিউজ ও আজকের তাজা আপডেট পড়ুন

অরুণাচল সীমান্তে চিনা ফৌজের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত! ‘প্যাট্রোলিং-এর নিয়ম ভাঙলেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়’, কড়া বার্তা ভারতের

India China border tension Arunachal Pradesh MEA statement ITBP Shaurya commandos
ছবি: পিটিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি: ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চিনা বাহিনী যখনই দীর্ঘস্থায়ী টহলদারির (Patrolling) প্রতিষ্ঠিত নিয়ম থেকে সরে আসে, তখনই সীমান্তে অশান্তির সৃষ্টি হয় (India China border tension)। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) ডিরেক্টর জেনারেল (DG) শত্রুজিৎ কাপুর সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চিনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় জওয়ানদের চলমান সংঘাতের বিষয়টি সামনে আনার পরই বিদেশ মন্ত্রকের এই কড়া প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল (National News Bengali)।

কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক?

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালকে আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি সেই মন্তব্যের কোনো উল্লেখ না করলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বর্তমান উত্তেজনার কথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেন (Arunachal Pradesh LAC dispute)। তিনি বলেন,

“আমরা আগেও যেমনটা দেখেছি, চিনা বাহিনী যখনই তাদের নির্ধারিত টহলদারির ধরন বা প্যাটার্ন থেকে সরে আসে, তখন সময়ে সময়ে ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।”

তবে উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা যে অব্যাহত রয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন জয়সোয়াল। তিনি বলেন, “প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অমিমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধান করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে উভয় পক্ষই বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়াগুলি ব্যবহার করছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রাসঙ্গিক এলাকাগুলিতে এলএসি সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।”

আইটিবিপি প্রধানের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ও ‘শৌর্য কমান্ডো’

বিদেশ মন্ত্রকের এই বার্তার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলোয়ারে (Alwar) আইটিবিপি-র ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন বাহিনীর প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর। তিনি সরাসরি জানান যে, অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) সঙ্গে ভারতীয় জওয়ানদের সংঘাত এখনও “চলমান”।

তবে চিনা বাহিনীর যেকোনো আস্ফালন রুখতে ভারত যে পুরোপুরি প্রস্তুত, তা-ও স্পষ্ট করেন কাপুর। তিনি জানান, আইটিবিপি একটি নতুন বিশেষায়িত কমব্যাট ইউনিট তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শৌর্য কমান্ডো’ (Shaurya commandos)। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কমান্ডোরা অরুণাচল প্রদেশে চলমান সংঘাতের সময় চিনা সেনার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

‘সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ চিন’, আধুনিকীকরণে জোর আইটিবিপির

আইটিবিপি জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় শত্রুজিৎ কাপুর চিনকে ভারতের “সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ” (Biggest adversary) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, চিনের মতো বিপুল সামরিক শক্তিসম্পন্ন দেশের মোকাবিলা করার জন্য এখন আর শুধুমাত্র ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত যুদ্ধের কৌশল যথেষ্ট নয়। তাই তাদের প্রতিহত করতে আইটিবিপি তাদের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করছে (International News Bengali)।

  • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
  • ইমার্জিং ওয়ারফেয়ার টেকনোলজির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
  • অল-টেরেইন ভেহিকেল, অটোনোমাস গ্রাউন্ড ভেহিকেল এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং (Taksing) এবং মাজা অঞ্চলে পিএলএ-র সঙ্গে ভারতীয় সেনার একাধিকবার মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেপ্টেম্বরে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে, তবুও এলএসি-র পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্য এবং বিদেশ মন্ত্রকের সতর্ক বার্তায় তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত একদিকে যেমন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চিনকে কড়া বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি আলোচনার রাস্তাও খোলা রাখছে।

Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ