নয়াদিল্লি: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের একাধিক দেশে আছড়ে পড়েছে গণবিক্ষোভের ঢেউ। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি এবং বেলজিয়ামে এই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ওই দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কবার্তা (Advisory) জারি করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। শুক্রবার নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ওই দেশগুলোতে থাকা ভারতীয়দের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং বিক্ষোভ চলছে এমন এলাকাগুলো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (National News Bengali)।
ভারতীয় দূতাবাসের কড়া নজরদারি ও বিদেশ মন্ত্রকের বার্তা
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, "ফ্রান্স, ইতালি এবং বেলজিয়ামে আমাদের মিশন (দূতাবাস) রয়েছে। সেখানকার মিশনগুলো উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তাঁরা ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন।"
যেসব দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে ভারতীয় নাগরিকদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জয়সোয়াল বলেন,
"প্রভাবিত দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাঁরা যখনই বাড়ির বাইরে বেরোবেন, তাঁদের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় বিক্ষোভ চলছে বা জমায়েত হচ্ছে, সেই জায়গাগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।"
এর পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে যে সমস্ত নির্দেশিকা বা সতর্কতা জারি করা হচ্ছে, তা-ও ভারতীয়দের অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও জানান, "ফ্রান্স এবং ইতালিতে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলো ইতিমধ্যেই সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিদেশে থাকা আমাদের সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে ভারত সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ" (Indian Embassy advisory)।
ফ্রান্সে চরম অশান্তি ও ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
গত কয়েকদিন ধরে ফ্রান্সের পরিস্থিতি সবথেকে বেশি উত্তপ্ত (France protest update)। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে গত সপ্তাহান্ত থেকেই ফ্রান্সে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ নগর-সহিংসতা (Urban violence)।
- রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্রান্সের লিমোজেস (Limoges) শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া একাধিক সরকারি সম্পত্তি এবং সাধারণ দোকানপাটে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়।
- শনিবার দেশজুড়ে নতুন করে বিশাল বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি সরকার ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রায় ৭০,০০০ পুলিশ মোতায়েন করেছে।
- বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে অরলিয়েন্সেও (Orleans)। সেখানে দক্ষিণপন্থী নেত্রী মেরিন লা পেনের 'ন্যাশনাল র্যালি' (National Rally) পার্টির বিরুদ্ধে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ মানুষের এক বিশাল জমায়েতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই এই জমায়েতকে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ইউরোপের সামগ্রিক সংকট ও পণ্যসঙ্কট
উল্লেখ্য, শুধু ফ্রান্স নয়, ইতালিতেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সম্প্রতি ট্রাক চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে ব্যাপক পণ্যসঙ্কট ও জ্বালানি আকাল দেখা দিয়েছে। বেলজিয়ামের রাজপথেও আছড়ে পড়েছে জনরোষ। সব মিলিয়ে ইউরোপের এই তিন দেশের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসী ভারতীয়দের সবরকম ঝুঁকি এড়িয়ে চলারই পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্র (International News Bengali)।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন