সৌদি আরবের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছক কষেছিল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউথি (Houthi) বিদ্রোহীরা। তবে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সেই হামলা সফলভাবে বানচাল করে দিয়েছে। মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো। এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আবহে সৌদি আরবে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কড়া সতর্কবার্তা (Advisory) জারি করেছে নয়াদিল্লির ভারতীয় দূতাবাস (International News Bengali)।
হামলার বিবরণ ও ধ্বংসাবশেষ
সৌদি আরবের 'সিভিল ডিফেন্স' (Civil Defense) এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে হাউথি বিদ্রোহীরা মক্কা এবং মদিনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। কিন্তু সৌদির অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে এবং আকাশেই মিসাইলগুলোকে ধ্বংস করে দেয় (Houthi missile attack Makkah Madinah)। মিসাইলগুলো তাদের লক্ষ্যে আঘাত হানতে না পারলেও, সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কার ওয়াদি আল-মুগাম্মাস, জেদ্দা, তাইফ এবং রাবিঘ-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এসে পড়েছে। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
অভিযোগ অস্বীকার হাউথিদের
সৌদি আরবের এই দাবির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি। তারা মক্কা ও মদিনার মতো ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে সৌদির দাবিকে "ডাহা মিথ্যা কথা" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক স্তরে এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে ধর্মীয় সহানুভূতি আদায় করতেই এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। ইয়াহিয়া সারি জানান, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর (Aramco) তেল শোধনাগার এবং সৌদির অন্যান্য কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি— কোনো ধর্মীয় স্থান নয় (Yemen Houthi rebels attack)।
ভারতীয় দূতাবাসের কড়া সতর্কবার্তা ও নির্দেশিকা
সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঘন ঘন ড্রোন ও মিসাইল হামলার কারণে সে দেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস (Indian Embassy advisory Saudi Arabia)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সৌদি আরবে বসবাসরত সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের আহ্বান জানানো হচ্ছে, তাঁরা যেন স্থানীয় নিয়মকানুন ও আইন কঠোরভাবে মেনে চলেন।"
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে তা হলো— কোনোভাবেই যেন মিসাইল বা ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা না হয়। অনেক সময় সাধারণ মানুষ কৌতুহলবশত আকাশে মিসাইল ধ্বংসের ছবি বা ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। দূতাবাস সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সাইবার ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এ ধরনের ভিডিও রেকর্ড করা বা তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে জেল বা বড় অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে (National News Bengali)।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলে আসছে। সম্প্রতি হাউথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন তৈল ঘাঁটি, পাইপলাইন এবং বিমানবন্দরে তাদের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন