নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার জিএসটি (GST Council Meeting decisions) কাউন্সিলের বৈঠকে একাধিক বড় সংস্কারমূলক পরিবর্তনে অনুমোদন দেওয়ার পর দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল আইনি মামলা এবং নথিপত্রের ঝক্কি থেকে বিরাট স্বস্তি পেতে চলেছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান জিএসটি ব্যবস্থার অধীনে করদাতাদের গ্রেফতার করার যে অধিকার কর আধিকারিকদের হাতে ছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার (GST arrest powers withdrawn) করে নেওয়া হয়েছে (National News Bengali)।
মামলার সীমা বৃদ্ধি ও গ্রেফতারির আতঙ্ক দূর
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে কোনও দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রফতানিকারক বা সংস্থাকে কর সংক্রান্ত বিবাদের ক্ষেত্রে আগের মতো আর গ্রেফতারের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হবে না। এর পাশাপাশি, আইনি পদক্ষেপ বা প্রসিকিউশন (prosecution) শুরুর আর্থিক সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে (GST prosecution limit 5 crore)।
এর সোজা অর্থ হলো, ছোটখাটো কর সংক্রান্ত বিবাদগুলি এখন থেকে ফৌজদারি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কেবল বকেয়া কর আদায়, প্রযোজ্য সুদ এবং জরিমানার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। ফলে অহেতুক পুলিশি হয়রানি বন্ধ হবে।
দ্রুত রিফান্ড ও স্বয়ংক্রিয় রেজিস্ট্রেশন বদল
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জিএসটি রিফান্ড (Fast GST refund rules) প্রক্রিয়াটিকেও আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। রিফান্ড বা টাকা ফেরতের দাবি গ্রহণের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যোগ্য দাবিদারদের ৯০ শতাংশ রিফান্ড মাত্র ৩টি কর্মদিবসের মধ্যেই সরাসরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ বিশেষ করে সেই সমস্ত রফতানিকারক এবং কোম্পানিগুলির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে, যাদের কোটি কোটি টাকা রিফান্ডের অপেক্ষায় আটকে থাকত। এছাড়াও, জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের সাধারণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatic Approval) অনুমোদন মিলবে, যার ফলে অফিসারদের অনুমোদনের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না।
ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের আওতা বৃদ্ধি ও করের হার
জিএসটি কাউন্সিল ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC)-এর আওতাও বৃদ্ধি করেছে। এখন থেকে বিমা এবং টেলিকম সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আইটিসি-র সুবিধা পাওয়া যাবে, যার ফলে কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির ওপর করের বাস্তব বোঝা অনেকটাই হ্রাস পাবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পণ্য ও পরিষেবার মূল জিএসটি হারে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে সাধারণ উপভোক্তাদের ওপর নতুন করে কোনো মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে না। আইনি সংশোধনের পর এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Business News Bengali)।