অ্যাটলান্টা: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আটলান্টায় আয়োজিত জি-২০ (G20 meeting Atlanta) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাশাপাশি, 'গ্লোবাল সাউথ'-এর (Global South) দেশগুলোর শিল্পায়নের অধিকার এবং বিশ্বব্যাপী শক্তি সরবরাহে (Energy supply) বিঘ্ন ঘটার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি (National News Bengali)।
বৈঠকের প্রথম ও দ্বিতীয় প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) নিজের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী।
নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও নাবিকদের নিরাপত্তা
জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, সামরিক শক্তি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য কূটনীতিকে সুযোগ দিতে হবে (S Jaishankar speech G20)। তিনি জানান, অসামরিক জাহাজে হামলার (Attacks on civilian ships) ফলে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর জেরে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে 'আনক্লস' (UNCLOS)-এর কাঠামোর মধ্যে থেকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। নাবিকদের সুরক্ষায় ভারত ও লাইবেরিয়ার যৌথ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৪ জন নাবিক-সহ অন্তত ২২ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে।
শিল্পায়নের অধিকার ও সাপ্লাই চেইন
শিল্পায়নের অধিকার থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বঞ্চিত করার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বাজার প্লাবিত করে, সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করে শিল্পায়নের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে, যা বাজারকে বিকৃত করছে। এর অবিলম্বে অবসান ঘটা উচিত।" বিশ্ব যখন ঝুঁকি কমানো এবং বৈচিত্র্য আনার পথে হাঁটছে, তখন বিকল্প ও স্থিতিস্থাপক কানেক্টিভিটি তৈরির ওপর জোর দেন তিনি (Global South industrialisation)।
জ্বালানি সংকট ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা
দ্বিতীয় প্লেনারি সেশনে জয়শঙ্কর জানান, বিশ্বে শক্তির কোনো অভাব নেই, সমস্যা হলো অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং আকাশছোঁয়া দাম। শক্তি পরিকাঠামো এবং বাণিজ্যের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলাকে তিনি শক্তির দামকে 'জিম্মি' করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বলে উল্লেখ করেন। ভারতের ক্লিন কুকিংয়ের (clean cooking) চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি (LPG) সরবরাহের ওপরও জোর দেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ নিয়েও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, "কৌশলগত হিসেবনিকেশের কারণে সন্ত্রাসবাদের বিপদকে কিছুতেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটি এমন একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যা এর ব্যবহারকারীদেরও একসময় কামড়ে দেয়।"
মার্কিন অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আবহে এই জি-২০ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তার 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির মাধ্যমে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সামুদ্রিক ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে কাজ করছে। আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর মিয়ামিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন (Leaders' Summit) অনুষ্ঠিত হবে। জানা গিয়েছে, এই জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কোয়াড (Quad) বৈঠকেও অংশ নেবেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. আটলান্টার জি-২০ বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী কী দাবি জানিয়েছেন?
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অবিলম্বে অসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এবং গ্লোবাল সাউথের শিল্পায়নের অধিকার খর্ব করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
২. অসামরিক জাহাজে হামলার ফলে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কী ক্ষতি হচ্ছে?
এর ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হচ্ছে, যার জেরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এস জয়শঙ্কর কী সতর্কবার্তা দিয়েছেন?
তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, কৌশলগত কারণে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যা একসময় এর ব্যবহারকারীদেরও ক্ষতি করতে পারে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন