নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশন বা ইসিআই (Election Commission of India) ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল। এবার থেকে একজন ভোটার ৭ নম্বর ফর্ম (Voter List Form 7 rules) জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার মুখে পড়বেন। শুক্রবার সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) কাছে এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন। মূলত ভিত্তিহীনভাবে একসঙ্গে প্রচুর ফর্ম জমা দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা এবং নির্বাচন আধিকারিকদের ওপর প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (National News Bengali)।
ফর্ম ৭ জমার নয়া সীমা ও নিয়ম
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘দাবি ও আপত্তি’ (Claims and Objections) পর্যায় চলাকালীন একজন ভোটার অনলাইন বা অফলাইন মিলিয়ে সর্বাধিক ১০টি ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে, 'নিরবচ্ছিন্ন আপডেট' (Continuous Updation) প্রক্রিয়ায় একজন ভোটার প্রতি মাসে সর্বাধিক ৫টি ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
এর আগে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (CEO India BLA rules) জন্য ফর্ম জমার নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট সীমা ছিল না, যার ফলে অনেকেই যথেচ্ছভাবে ফর্ম জমা দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছিলেন।
ফর্ম যাচাই ও শুনানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি
ফর্ম যাচাই ও শুনানির ক্ষেত্রেও একাধিক কড়াকড়ি আনা হয়েছে (Fake voter ID removal):
- স্বাক্ষর ও যাচাই (Verification): ফর্মে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ বিবরণ ও আসল স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের স্বাক্ষরের সিল (signature seals) ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) আবেদনকারীর পরিচয় ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করবেন।
- শুনানি প্রক্রিয়া: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ERO আবেদনকারীকে নোটিশ পাঠাবেন এবং প্রতিটি ৭ নম্বর ফর্মের জন্য আলাদা করে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করবেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে, যাঁর বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়েছে তাঁকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।
- মিথ্যা অভিযোগে শাস্তি: যাচাই প্রক্রিয়ায় যদি প্রমাণিত হয় যে সম্পূর্ণ মিথ্যা বা ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act, 1950) ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি সন্দীপ কুমার এই নির্দেশিকা জারি করেছেন এবং সমস্ত স্তরের আধিকারিকদের দ্রুত এই নিয়ম কার্যকর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ফর্ম-৭ কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে কোনো মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি জানানোর জন্য ৭ নম্বর ফর্ম (Form-7) ব্যবহার করা হয়।
২. একজন ভোটার সর্বাধিক কতগুলি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবেন?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘দাবি ও আপত্তি’ পর্যায়ে একজন ভোটার সর্বাধিক ১০টি এবং 'নিরবচ্ছিন্ন আপডেট' প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে সর্বাধিক ৫টি ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
৩. মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী শাস্তি হতে পারে?
যাচাই প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ভুয়ো প্রমাণিত হলে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।