রাহুল দেব বর্মন, দিনহাটা: বৌদি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পঞ্চায়েত সদস্যা, আর সেই আক্রোশেই তাঁর দেওর এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচনি এলাকায় (Dinhata TMC BJP clash)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত দম্পতি বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (Cooch Behar news Bengali)।
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?
আক্রান্ত গৃহশিক্ষক দেবজিৎ বর্মনের অভিযোগ, বুধবার রাতে তিনি যখন টিউশন পড়িয়ে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাড়ির সামনেই তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, সাত-আটজন বিজেপি কর্মী তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তিনি কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়িতে ঢুকলে, আক্রমণকারীরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী প্রিয়া পালের ওপরও হামলা চালায় (Pregnant woman attacked in Cooch Behar)।
"সাদা থান পরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়"
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রিয়া পাল জানান, "আমার স্বামী বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনেই ওরা তাঁকে মারধর শুরু করে। আমি আট মাসের গর্ভবতী, অসুস্থ থাকায় শুয়েছিলাম। চিৎকার শুনে বাইরে আসতেই দেখি ওরা আমার স্বামী, দেওর সবাইকে মারছে। আমি স্বামীকে বাঁচাতে গেলে ওরাও আমাকে মারধর করে। এমনকি আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, আজকের পর থেকে আমি বাড়ি থেকে বেরোলে আমাকে সাদা থান পরিয়ে রাখা হবে।"
কাদের বিরুদ্ধে এই মারধরের অভিযোগ?
নির্যাতিত দম্পতির অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মাম্পি সরকার, তাঁর স্বামী সমীর সরকার, বুথ সভাপতি রাকেশ বর্মন, চঞ্চল বর্মন, মনোরঞ্জন বর্মন-সহ আরও কয়েকজন এই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দেবজিৎ বর্মন জানান, তাঁর বৌদি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা হওয়ায় এবং তিনি নিজে বিজেপি না করায়, গত ৪ তারিখের পর থেকেই তাঁদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল (Dinhata political violence)। এমনকি তাঁর টিউশন পড়ানোর কাজও বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ।
বিজেপির পাল্টা দাবি ও তদন্ত
তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি (BJP vs TMC clash)। স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মাম্পি সরকার একটি ভিডিও বার্তায় পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, " বিজেপির দুই কর্মী তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন এই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের হার্মাদরা তাদের উপর চড়াও হয়।" অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে মাম্পি সরকার বলেন, "কোনো অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধর করা হলে আমরাই তার প্রতিবাদ করব। তবে হাসপাতালে শুয়ে নাটক করার কিছু নেই, সত্যি মারধর করা হয়ে থাকলে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখানো হোক।" এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আক্রান্ত পরিবার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. দিনহাটার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতে কী ঘটনা ঘটেছে?
দিনহাটার কুচনি এলাকায় বৌদি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা হওয়ায় আক্রোশের জেরে তাঁর দেওর এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
২. আক্রান্ত দম্পতির নাম কী এবং তারা এখন কোথায়?
আক্রান্ত গৃহশিক্ষকের নাম দেবজিৎ বর্মন এবং তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর নাম প্রিয়া পাল। তারা দুজনেই বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৩. এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি কী বলছে?
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেছে যে, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীই তাদের এক নারী কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন