নয়াদিল্লি/কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (West Bengal DA news) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নজরদারি কমিটি তাদের তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু শীর্ষ আদালতে এই রিপোর্ট (DA case in Supreme Court) পেশ হতেই নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ, জমা পড়া এই রিপোর্টে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) বা অনুদানভুক্ত কর্মীদের বকেয়ার কোনও উল্লেখই রাখা হয়নি। এর জেরে সংশ্লিষ্ট কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
৪২ হাজার কোটি থেকে এক ধাক্কায় ৮ হাজার কোটিতে নামল হিসাব!
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বকেয়া ডিএ-র বিপুল আর্থিক অঙ্কের ফারাক। অভিযোগকারী সংগঠনগুলির দাবি, এর আগে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল যে সমস্ত বকেয়া মেটাতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন, যার মধ্যে অনুদানভুক্ত কর্মীদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়।
কিন্তু বর্তমানে সেই অঙ্ক এক ধাক্কায় কমে মাত্র ৮,১০৩ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে! রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া এই সংশোধিত হিসাবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের (Grant-in-aid employees DA) পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নথি নেওয়া সত্ত্বেও কেন ব্রাত্য কর্মীরা?
রিপোর্ট তৈরির আগে বিভিন্ন কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছিল নজরদারি কমিটি (Indu Malhotra committee DA report)। সেই নথি বিবেচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত রিপোর্টে তার কোনো প্রতিফলন না থাকায় হতাশ কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, "নথি যদি গ্রাহ্যই না করা হয়, তবে তা চাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল?" উল্লেখ্য, এই গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানভুক্ত কর্মীদের আওতায় কেবল স্কুল বা শিক্ষাক্ষেত্র নয়, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বোর্ড এবং কর্পোরেশন স্তরের অসংখ্য কর্মীও পড়েন। এই বিশাল অংশের কর্মীকে বাদ দিয়ে ডিএ মামলার কোনো রিপোর্টই সম্পূর্ণ হতে পারে না বলে দাবি সংগঠনগুলির।
বঞ্চিত কর্মীদের মূল দাবি ও আইনি পদক্ষেপ
বঞ্চিত রাজ্য সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের (State government employees DA update) প্রধান দাবিগুলি হলো:
- সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (AICPI) এবং ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সমস্ত সরকারি কর্মী এবং অনুদানভুক্ত কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে।
- অনুদানভুক্ত কর্মীদের বকেয়ার জন্য একটি আলাদা এবং স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
- বৈষম্য দূর করতে নজরদারি কমিটির নিয়মিত বৈঠক সুনিশ্চিত করতে হবে।
কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, এই অবহেলার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নজর ১৮ ডিসেম্বরের বৈঠকে
সূত্রের খবর, আগামী ১৮ ডিসেম্বর কলকাতায় ইন্দু মালহোত্রা কমিটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের হিসাবের এই অস্বচ্ছতা, বিপুল টাকার ফারাক এবং রিপোর্টে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কমিটির কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইবেন কর্মী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। আপাতত আদালতের নির্দেশিকা এবং সরকারি নথির ওপর ভিত্তি করে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে আইনি লড়াই জোরদার করছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সংগঠনগুলি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন