কলকাতা: ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার (Dearness Allowance) দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court DA case order) নির্দেশের পরেও রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের একাংশ, বিশেষত 'গ্র্যান্ট-ইন-এইড' (Grant-in-Aid) বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া থেকে এখনও বঞ্চিত। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABTA)-র নেতৃত্বে দায়ের করা মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনেও কোনও চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি রাজ্য সরকার (West Bengal DA Update)।
রিপোর্ট পেশে ব্যর্থ রাজ্য, মিলল বাড়তি সময়
গত ২১শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে মাননীয় বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১১ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও রাজ্য তা করতে ব্যর্থ হয়।
গতকালকের শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) আরও দু'সপ্তাহের সময় চেয়ে নেন এবং বিচারপতি তা মঞ্জুর করে আগামী ২০শে নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আরও দু'সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীদের তাদের বক্তব্য বা 'এক্সেপশন' (Exception) ফাইল করার সুযোগ দেওয়া হবে।
আইনজীবীদের সওয়াল ও হিসাবের গরমিল
মামলাকারী শিক্ষকদের পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস আদালতে সওয়াল করেন (ABTA DA Case High Court)। তাঁদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও 'গ্র্যান্ট-ইন-এইড' শিক্ষকদের (Grant in Aid teachers DA) প্রাপ্য ডিএ-র একটি টাকাও এখনও পর্যন্ত মেটানো হয়নি। রাজ্য সরকারের তরফে ইতিপূর্বে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার হিসাব পেশ করা হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার মতো মেটানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি টাকা কবে মেটানো হবে, সে বিষয়েও রাজ্যের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই (State Govt Employee News Bengali)।
মামলাকারীদের দাবি ও পরবর্তী শুনানি
মামলাকারীদের দাবি, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE)-এর নিয়ম অনুযায়ী এই ডিএ মেটানো উচিত এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়তেও তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। তবুও রাজ্য সরকার বারবার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। আদালত জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের 'মান্থলি লিস্ট'-এ মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে এবং তা 'অ্যাডজর্ন মোশন'-এ থাকবে। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে শিক্ষকদের প্রাপ্য বকেয়া মিটিয়ে একটি 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' (Compliance Report) জমা দেবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন মামলাকারীরা।