নয়াদিল্লি: একদিকে ‘ভোট চুরি’ ও ইভিএম হ্যাকিংয়ের অভিযোগে দেশজুড়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে কংগ্রেস, অন্যদিকে ব্যালট পেপারে হওয়া ৪ রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ (MLC) আসনের নির্বাচনে একটিতেও খাতা খুলতে পারল না হাত শিবির (Congress zero in MLC elections)। এমনকি নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তথা শাসক দল হওয়া সত্ত্বেও কর্ণাটকে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। এই ফলাফল লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচারে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল (National News Bengali)।
৪ রাজ্যের এমএলসি নির্বাচনের ফলাফল
সম্প্রতি কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মূলত শিক্ষক ও স্নাতক ভোটাররাই অংশ নেন:
কর্ণাটক: এই রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও চারটি আসনের চারটিতেই জয়ী হয়েছে এনডিএ জোট (NDA)। ডিকে শিবকুমারের গড় বলে পরিচিত বেঙ্গালুরু টিচার্স কেন্দ্রেও বিজেপির জোটসঙ্গী জেডি(এস)-এর কাছে পরাস্ত হয়েছেন কংগ্রেসের পাঁচবারের এমএলসি পুট্টান্না (Karnataka MLC election result)। তিনি জেডি(এস) প্রার্থী এ পি রঙ্গনাথের কাছে ৯০৮ ভোটে হেরে যান। বাকি তিনটি আসনে জিতেছে বিজেপি।
উত্তরপ্রদেশ: ১১টি আসনের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (SP) ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খাসতালুক বারাণসীর শিক্ষক আসনেও হেরেছে বিজেপি।
বিহার ও মহারাষ্ট্র: বিহারে খাতা খুলেছে প্রশান্ত কিশোরের দল 'জন সুরাজ পার্টি' এবং পাটনার গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছে আরজেডি (RJD)। মহারাষ্ট্রেও শরদ পওয়ারের দল খাতা খুলতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই দুই রাজ্যেই কংগ্রেস শূন্য।
কংগ্রেসের সাফাই ও বাস্তব চিত্র
কংগ্রেসের দাবি, এমএলসি নির্বাচন মূলত স্থানীয় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনসংযোগ ও জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে, তাই এর মাধ্যমে সার্বিক জনমতের প্রতিফলন ঘটে না। কিন্তু কর্ণাটকে দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের কোনো সদুত্তর হাত শিবিরের কাছে নেই। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই নির্বাচনটি ব্যালট পেপারে (Ballot paper voting India) হওয়ায় কংগ্রেসের ইভিএম কারচুপি বা 'ভোট চুরি'র অভিযোগ ধোপে টিকছে না।
দেশব্যাপী 'ভোট চুরি'র অভিযোগ ও কংগ্রেসের কর্মসূচি
বিধান পরিষদ নির্বাচনে এই করুণ পরিণতির মাঝেই দেশজুড়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে কংগ্রেস (Congress EVM hack protest)। জলপাইগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক সঞ্জয় কাপুর অভিযোগ করেন, দেশে "ভোট চুরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে জবরদস্তি সরকার গঠন করা হচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে বিনাশ করার চক্রান্ত চলছে।" তিনি জানান, ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি চলছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে এবং নামের বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপেও বহু আবেদন সত্ত্বেও দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম ছাঁটাই করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলেও তোপ দাগেন তিনি।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A) জোটের শরিকদের নিয়ে এক বিশাল গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। তবে ব্যালট ভোটে সদ্য শূন্য পাওয়া দলের এই ‘ভোট চুরি’র তত্ত্ব সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ৪ রাজ্যের এমএলসি (MLC) নির্বাচনে কংগ্রেস কটি আসন পেয়েছে?
সম্প্রতি কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ২৮টি বিধান পরিষদ বা এমএলসি আসনে ব্যালট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কংগ্রেস একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি।
২. কর্ণাটকে এমএলসি নির্বাচনের ফলাফল কী?
কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এমএলসি নির্বাচনের ৪টি আসনের সবকটিতেই এনডিএ জোট (বিজেপি এবং জেডিএস) জয়ী হয়েছে।
৩. কংগ্রেস কেন ১ নভেম্বর দিল্লিতে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে?
ইভিএম হ্যাকিং, ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার অভাবের অভিযোগ তুলে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে কংগ্রেস এই গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন